
কবিতা
সাধুর নগরী ঘুরিয়া ঘুরিয়া
আজ বড়ো বিস্ময় জাগে—
মুখে সুধা, অন্তরে বিষ,
পুণ্যবাণী পাপের দাগে।
কপালে চন্দন, গলায় মালা,
চোখে করুণার জল,
অন্তঃপুরে লোভের মেলা—
বাহিরে সাধুতার ছল।
জিহ্বায় তাদের বেদ-পুরাণ,
বুকে হিসাব নিকাশ,
অন্যের ঘরে নীতির বুলি,
নিজের ঘরে অন্ধকারের বাস।
যে হাতে ওঠে তসবিহ-মালা,
সে হাতেই গোপন ফাঁস;
যে মুখ বলে—‘মানুষ সেবা’,
সেই মুখে স্বার্থের সুবাস।
এ নগরীতে সাধু অনেক,
মানুষ বড়ই কম—
পোশাকজুড়ে পবিত্রতার রং,
হৃদয়জুড়ে কালো মেঘের জম।
আমি তাই আর সাধু খুঁজি না,
খুঁজি একটি নির্মল প্রাণ—
যার চোখে সত্যের দীপ জ্বলে,
যার কাজে মানুষের সম্মান।
যে নীরবে ভালোবাসে মানুষ,
নাম লেখে না পুণ্যের খাতায়,
যে ক্ষুধার্তের পাশে বসে
নিজের অন্ন ভাগ করে খায়।
সাধুর নগর ঘুরিয়া শেষে
এই কথাটিই বুঝিলাম—
সাধু হওয়া সহজ বড়ো,
মানুষ হওয়া কঠিন জানিলাম।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক
সরিষাবাড়ি জামালপুর