
কবিতা
হায়! কী কথা বলেছিলাম—
কী চমৎকার বুলি!
বলেছিলাম, দাম কমবে—
ভরবে গরিবের ঝুলি।
বলেছিলাম, বৈষম্য যাবে,
ন্যায় আসবে ঘরে;
জনতাই হবে দেশের মালিক—
ক্ষমতা থাকবে জনতার তরে!
আজ দেখি—বাজারজুড়ে
দামের ঘোড়া দৌড়ায়,
গরিব শুধু হাঁ করে দেখে,
মধ্যবিত্তও হোঁচট খায়।
গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই,
জ্বালানিতে আগুন;
তবু মঞ্চে উন্নয়নের
বাজে ঢাকের ধুম।
ভাষণে ভাত সস্তা হয়,
কাগজে কমে দাম,
বাস্তব বাজারে ঢুকলেই দেখি—
পকেট করে সালাম!
ভোটের আগে—“ভাইরে আমার,
তুমিই দেশের প্রাণ!”
ভোটের পরে দরজায় লেখা—
“সাক্ষাৎ নিষেধ, ব্যস্ত মহান!”
প্রতিশ্রুতির ফুল ফুটিয়ে
ক্ষমতার বাগান,
ফুল শুকালেই জনতার হাতে
দাও নতুন বয়ান!
তাই আজ বিবেকের সামনে
বলছি নির্ভয়ে—
আমি মিথ্যাবাদী,
যদি মিথ্যা বলি মুখে;
আর যারা মিথ্যা বলে
জনতার চোখের দিকে চেয়ে—
কি নাম লিখবে তাদের,
ইতিহাসের বুকে।
মনে রেখো—
খালি হাঁড়ি বক্তৃতা বোঝে না,
ক্ষুধা বোঝে না স্লোগান;
পকেট যখন শূন্য হয়,
ভেসে যায় সব বয়ান।
একদিন জনতা প্রশ্ন করবে—
“কোথায় তোমার হিসাব?”
সেদিন মাইক বন্ধ থাকবে,
বন্ধ থাকবে জবাবের কিতাব।
সেদিন পোস্টার নয়—
মুখ চিনবে ইতিহাস;
সেদিন প্রতিশ্রুতি নয়—
কাজ চাইবে জনতার নিঃশ্বাস।
ক্ষমতার চেয়ার শক্ত হলেও
চিরস্থায়ী নয় তার পা;
জনতার ধৈর্য শেষ হয়ে গেলে
সিংহাসন কাঁপে—
এটাই রাজনীতির আসল কথা।
লেখক কলামিস্ট মানবাধিকার কর্মী রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর