1. 6Pr8ATtqVi7RBp@gmail.com : 6Pr8ATtqVi7RBp :
  2. : lf_flvdbCnglkgU :
  3. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  4. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
YouWin giriş 🎉 ile kazanmaya başla নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরলো যমুনা সারকারখানা যমুনা সারকারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু Yeni oyun deneyimlerini keşfetmek Mariobet güncel giriş ile kolay আমি মিথ্যাবাদী – আল আমিন মিলু পোরশার গাঙ্গুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ; ‘সবই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি অভিযুক্তের নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরিষাবাড়িতে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার—কেন ঠেকানো যাচ্ছে না? ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার দশম শ্রেণির ছাত্রীর সন্তান প্রসব, নবজাতকের পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবি

দীর্ঘ আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরলো যমুনা সারকারখানা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 
আড়াই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ ফিরে পেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরেছে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ৬ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ সার কারখানা। তবে উৎপাদন শুরুর পরও কাটেনি শঙ্কা—গ্যাসের চাপ প্রয়োজনীয় মাত্রায় না থাকলে আবারও থমকে যেতে পারে উৎপাদনের চাকা।
কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। এরপর উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চাপ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ ৮ কেজিতে নেমে গেলে বয়লার ‘স্ট্রিপ’ করে উৎপাদন সাময়িক বন্ধ করতে হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে নেমে আসে। এতে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অনিশ্চয়তায় পড়ে জেএফসিএলের উৎপাদন।
এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আবারও কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। তবে সরবরাহ পাওয়া গেলেও শুরু থেকেই ছিল চাপ নিয়ে উদ্বেগ। প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত হওয়ার পর অবশেষে ৬ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
দ্বিগুণ দামে গ্যাস, তবুও অনিশ্চয়তা
দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জেএফসিএল জাপানি প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা। কারখানাটি বন্ধ থাকলে শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের সার সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ে।
দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনে কারখানাটি উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে টেকসই উৎপাদনের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
কারখানা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংযোগ থাকলেই উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গ্যাস প্রবাহও নিশ্চিত করতে হবে। কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস প্রয়োজন। সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কারখানার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসে।
কৃষকের সার সরবরাহে শঙ্কা
জেএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ থাকার সরাসরি প্রভাব পড়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থায়। জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলার কৃষকের জন্য এ কারখানার উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন দীর্ঘায়িতভাবে বন্ধ থাকলে বাজারে ইউরিয়ার ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়।
একই সঙ্গে বাড়ে আমদানিনির্ভরতা। দেশের চাহিদা মেটাতে তখন বিদেশ থেকে অতিরিক্ত সার আমদানি করতে হয়। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
অন্যদিকে কারখানা সচল থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী থেকে শুরু করে সার পরিবহন, ট্রাকচালক, কুলি, ডিলার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগার এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
প্রশ্ন টেকসই উৎপাদন নিয়ে
জেএফসিএলের উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ পূর্ণ সক্ষমতায় কারখানাটি চললে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা, গ্যাস সংযোগ, উৎপাদন শুরুর চেষ্টা এবং আবারও গ্যাসচাপ কমে যাওয়ার ঘটনায় একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে—শুধু গ্যাস সংযোগ দিলেই কি জেএফসিএলের উৎপাদন সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে?
কারখানা কর্তৃপক্ষের মতে, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চাপ ও প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে কারখানা চালুর উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
প্রধানমন্ত্রীরসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘কারখানাটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই আনন্দিত। এখন উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে বোরো মৌসুম, বাড়ছে গুরুত্ব
সামনে বোরো মৌসুম। এ সময়ে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। ফলে জেএফসিএলের মতো বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার উৎপাদন সচল রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ৬ অক্টোবর উৎপাদনে ফিরেছে জেএফসিএল। এখন কারখানাটি কতটা ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়। গ্যাসের চাপ বা সরবরাহ আবারও কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের সার সরবরাহ, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—এবার শুধু গ্যাস সংযোগ নয়, প্রয়োজনীয় চাপ ও প্রবাহসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে জাপানি প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সক্ষমতার এ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট