
নাহিদ পোরশা নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ০১ কোটি ২৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা মূল্যমানের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে এবং শ্বেত পাথরের খন্ডাংশ উদ্ধার
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।গত বুধবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ০২১৫ ঘটিকায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি এবং এলআই বিজিবি’র একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উজেলাধীন তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খন্ডাংশ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে ভোর ০৪৩০ ঘটিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাধীন চান্দোহর এলাকায় অপর একটি অভিযানে ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের খন্ডাংশ, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের খন্ডাংশ, ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খন্ডাংশ, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খন্ডাংশ এবং ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খন্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে এবং শ্বেত পাথরের খন্ডাংশের মোট সিজার মূল্য ১,২৯,৯০,০০০/- (এক কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য অপরিমেয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।