
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমি আর বিশ্বাস করিনা।
এদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে—আমি আর বিশ্বাস করিনা।
জনগণ সঠিক বিচার পাবে—আমি আর বিশ্বাস করিনা।
কৃষক তার ন্যায্য অধিকার পাবে—আমি আর বিশ্বাস করিনা।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
কারণ দেখেছি, ধানের শীষ ফলানো হাতই
সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে।
যে কৃষক সোনালী ফসল ফলায়,
তার ঘরেই অনেক সময় চুলা জ্বলে না।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
শ্রমিকের ঘাম এখানে নদী হয়ে ঝরে,
কিন্তু তার ভাগ্যে জোটে না এক ফোঁটা স্বস্তি।
যে হাত শহর গড়ে, সেতু গড়ে, অট্টালিকা গড়ে,
সে হাতই শেষে নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে ফেরে।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
আইনের পাল্লা সবার জন্য সমান।
কারণ দেখেছি, ক্ষমতার কাছে সত্য অনেক সময়
মোমের মতো গলে যায়,
আর ন্যায়বিচার দাঁড়িয়ে থাকে দরজার বাইরে
একজন অবহেলিত ভিখারির মতো।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
শিক্ষা মানুষকে মুক্তি দেয়।
কারণ হাজারো সনদ আজ
চাকরির দরজায় ঝুলে থাকা তালার সামনে
পরাজিত সৈনিকের মতো পড়ে থাকে।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
জনগণের ভোট জনগণের ভাগ্য লেখে।
কারণ বহুবার দেখেছি,
প্রতিশ্রুতির রঙিন ঘুড়ি আকাশে উড়ে,
আর নির্বাচনের পর তার সুতো কেটে যায়।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
গরিবের কান্না এই রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙায়।
এখানে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না
মাইকের শব্দে হারিয়ে যায়,
বেকারের দীর্ঘশ্বাস
পরিসংখ্যানের নিচে চাপা পড়ে যায়।
আমি আর বিশ্বাস করিনা—
কারণ বিশ্বাস করতে করতে
একটা প্রজন্ম বুড়ো হয়ে গেছে।
অপেক্ষা করতে করতে
অনেক চোখের আলো নিভে গেছে।
অনেক বুকের ভেতর জমে থাকা স্বপ্ন
কবরস্থানের মাটির মতো নীরব হয়ে গেছে।
আজ তাই আমি আর বিশ্বাস করিনা।
তবে ইতিহাসকে জানি।
যখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়,
তখন নীরবতাও বজ্রধ্বনি হয়ে ওঠে।
যখন অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় বারবার,
তখন বঞ্চিত মানুষেরাই লিখে নতুন সময়ের নাম।
সেদিন হয়তো আমি থাকব না,
কিন্তু আমার মতো লক্ষ মানুষের
অপূর্ণ বিশ্বাস, দগ্ধ দীর্ঘশ্বাস আর জমে থাকা ক্ষোভ
একদিন ঝড় হয়ে উঠবে—
আর সেই ঝড়ের সামনে
সব মিথ্যা, সব অন্যায়, সব ভণ্ডামি
শুকনো পাতার মতো উড়ে যাবে।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর