1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের অর্থনীতি সমুদ্রের তলানিতে চলে গেছে। চার মাসে সরকারের ঋণের বোঝা ৬৯ হাজার কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে??

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশের অর্থনীতি—একসময় যাকে বলা হতো সম্ভাবনার উজ্জ্বল দিগন্ত, আজ অনেকের চোখে সেটি যেন ধীরে ধীরে সমুদ্রের তলানির দিকে ডুবছে। প্রশ্নটা এখন আর শুধু অর্থনীতিবিদদের নয়, সাধারণ মানুষের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে—ঋণ করে আর কতদিন চলবে দেশ? এই ধারাবাহিকতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় তার উৎপাদন, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও সুশাসনের উপর। কিন্তু যখন এসব খাতে ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে, তখন অর্থনীতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে, আর বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে কঠিন। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করতে পারে।
ঋণ নেওয়া কোনো খারাপ বিষয় নয়—বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও ঋণ নেয়। কিন্তু সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ঋণের সঠিক ব্যবহার হয় না বা সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যায়। যদি একটি দেশ বারবার ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা এক ধরনের অর্থনৈতিক ফাঁদে পরিণত হতে পারে। তখন দেশ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলে, এবং নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বাইরের শক্তির উপর।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রপ্তানি খাতের সীমাবদ্ধতা। আমরা মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এই একমুখী নির্ভরতা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। যদি কোনো কারণে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো অর্থনীতিই ধাক্কা খাবে। পাশাপাশি, প্রবাসী আয়ের উপরও আমাদের বড় নির্ভরতা রয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা এই আয়কেও প্রভাবিত করতে পারে।
এছাড়া, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, ঋণখেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং সুশাসনের ঘাটতি অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। যখন একটি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলে কর্মসংস্থানও কমে যায়, যার ফলে বেকারত্ব বাড়ে।
তাহলে ভবিষ্যৎ কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর একেবারেই অন্ধকার নয়। বরং এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদি এখনই আমরা সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি, তাহলে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। আমাদের প্রয়োজন বহুমুখী রপ্তানি খাত গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো, এবং সর্বোপরি সুশাসন নিশ্চিত করা।
সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। কর প্রদানে সচেতনতা, অপচয় কমানো, এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো—এসব ছোট ছোট পদক্ষেপও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সাথে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ আজ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময় আমাদের ভয় পাওয়ার নয়, বরং সচেতন হওয়ার। অর্থনীতির এই নিম্নগতি আমাদের জন্য একটি শিক্ষা—কিভাবে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।
প্রশ্নটা এখন আর শুধু “কোথায় যাচ্ছি?” নয়—বরং “কিভাবে সঠিক পথে ফিরবো?”। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের দিকনির্দেশনা খুজে বের করতে হবে উত্তরনের তবেই রক্ষা পাবে বাংলাদেশ। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট