
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলাম ধর্মে কোরবানি কেবল একটি আচার নয়, বরং ত্যাগ, আনুগত্য ও ভালোবাসার এক অনন্য ইতিহাস। এর সূচনা মানবজাতির আদি যুগ থেকেই।
মানব সৃষ্টির শুরুতেই আমরা দেখি হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র—হাবিল ও কাবিলের ঘটনা। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি পেশ করেন। হাবিল আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে উত্তম বস্তু কোরবানি করেন, আর কাবিল অনিচ্ছায় নিম্নমানের বস্তু দেয়। ফলে আল্লাহ হাবিলের কোরবানি কবুল করেন, কিন্তু কাবিলেরটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এখান থেকেই শেখা যায়—কোরবানির মূল শিক্ষা হলো নিখাঁদ নিয়ত ও আন্তরিকতা।
এরপর কোরবানির সবচেয়ে মহান ও হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)। আল্লাহর নির্দেশে তিনি নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হন। এটি ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। পিতা-পুত্র উভয়েই আল্লাহর আদেশে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেন। যখন ইব্রাহিম (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই অনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন। এই ঘটনাই আজকের কোরবানির মূল ভিত্তি।
এরপর থেকে প্রতি বছর জিলহজ মাসে মুসলমানরা এই ত্যাগের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে কোরবানি করে থাকেন। এটি শুধু পশু জবাই নয়, বরং নিজের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার এক প্রতীক।
সুতরাং, কোরবানির ইতিহাস আমাদের শেখায়—আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যই জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য। এই শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে আমরা যেন প্রকৃত অর্থে কোরবানির মর্ম বুঝতে পারি। এটাই আমাদের হৃদয়ে মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে।
রাশেদুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টা জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার,জামালপুর জেলা। প্রকাশক সম্পাদক : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪.কম