
নিজস্ব আন্দোলনের
সব ক্ষত রক্ত ঝরায় না— কিছু ক্ষত থাকে বুকের গহন গুহায়, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, পৌঁছায় না মানুষের করুণা, শুধু দীর্ঘশ্বাসের কালো পাখিরা ডানা ঝাপটে রাত জাগায়।
আমি সেই ক্ষতের রাজ্যের নির্বাসিত এক রাজপুত্র— মাথায় কাঁটার মুকুট, বুকে অদৃশ্য শবযাত্রা, চোখে সহস্র অশ্রুর নদী, তবু কান্নার কোনো শব্দ নেই।
তুমি চলে যাওয়ার দিন আকাশ ভাঙেনি— ভেঙেছিল আমার ভেতরের আকাশ। তারারা একে একে নিভে গিয়েছিল, চাঁদ নেমেছিল রক্তাক্ত হয়ে, আর আমার সমস্ত স্বপ্ন ছাই হয়ে উড়েছিল অভিমানের শ্মশানে।
আজও প্রতি নিশীথে আমি বুকের ভাঙা দরজায় তোমার নামের প্রদীপ জ্বালাই। বাতাস এসে নিভিয়ে দেয়, তবু নির্বোধ হৃদয় আবারও আগুন ধার করে অপেক্ষার সলতে জ্বালায়।
আমার হৃদয় এখন একটি পরিত্যক্ত মন্দির— ঘণ্টা বাজে না, প্রার্থনা জাগে না, শুধু ভাঙা প্রতিধ্বনিরা তোমার নাম ধরে অন্তহীন বিলাপ গায়।
আমি হাসি— যেন কিছুই হয়নি! আর ভেতরে ভেতরে একটি সমুদ্র প্রতিদিন নিজের ঢেউয়ে নিজেকেই ডুবিয়ে মারে।
হে প্রিয়, যদি কোনোদিন আমার নীরব চোখের দিকে তাকাও, দেখবে— সেখানে হাজারো না-বলা কবিতা রক্তে লেখা। প্রতিটি পঙ্ক্তি একটি অসমাপ্ত বিদায়, প্রতিটি বিরামচিহ্ন একটি নিঃশব্দ মৃত্যু।
কারণ, ভাঙা হৃদয় কখনো একবার মরে না— সে প্রতিদিন মরে, প্রতিটি স্মৃতির কাছে, প্রতিটি সন্ধ্যার কাছে, প্রতিটি একাকী রাতের কাছে।
আর নিঃশব্দ ক্ষত?
সে তো এমন এক আগুন— যার শিখা দেখা যায় না, কিন্তু সেই আগুনেই একজন মানুষ ধীরে ধীরে, অতি ধীরে, নিজেই ছাই হয়ে যায়…
“যে ক্ষতের কোনো রক্ত নেই,
সেই ক্ষতই সবচেয়ে লাল।
যে কান্নার কোনো শব্দ নেই,
সেই কান্নাই সবচেয়ে কাল।
মানুষ ভাবে—আমি বেঁচে আছি;
আমি জানি—আমি শুধু মৃত্যুকে
প্রতিদিন একটু একটু করে
বয়ে নিয়ে চলেছি…”
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর