অনলাইন জুয়ার গ্রাসে সরিষাবাড়ীর বয়ড়া গ্রাম: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, বাড়ছে অপরাধ


বিশেষ প্রতিবেদন:রকিবুল ইসলাম লিংকন
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত বয়রা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে অতি সম্প্রতি অনলাইন জুয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ উপায়ে দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে পড়ে গ্রামের তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীরা একের পর এক অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে। এর ফলে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে।

মোবাইল স্ক্রিনে সর্বস্বান্ত তরুণরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বয়ড়া গ্রামের বিভিন্ন চায়ের দোকান, মোড় এবং আড্ডাস্থলে স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকছে উদীয়মান তরুণরা। ‘ওয়ান-এক্সবেট (1xBet)’, ‘এভিয়েটর (Aviator)’, ‘মেলবেট (Melbet)’ এবং নানা ধরনের ক্র্যাশ গেমের মতো বিপজ্জনক অ্যাপস ব্যবহার করে এই জুয়ার কারবার চালানো হচ্ছে। শুরুতে সামান্য কিছু টাকা জিতে প্রলোভনে পড়লেও পরবর্তীতে হাজার হাজার থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছে তারা। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে অনেক তরুণ পরিবারের জমা সঞ্চয় শেষ করছে, আবার কেউ কেউ সুদে ঋণ নিয়ে ঋণের সমুদ্রে ডুবছে।
বাড়ছে অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি
অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ আসক্তির কারণে বয়ড়া গ্রামে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক কলহের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। এনজিও বা সুদের ওপর টাকা নিয়ে জুয়ায় হেরে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার। তরুণদের লেখাপড়া ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে মারাত্মক হতাশা ও ডিপ্রেশনে ভুগছে তারা।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও সচেতনতার দাবি
গ্রামের সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, কেবল পুলিশি অভিযান নয়, এই ডিজিটাল মরণফাঁদ থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। অ্যাপগুলোর লেনদেনে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্সির ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং বয়ড়া গ্রামজুড়ে দ্রুত সচেতনতামূলক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে বয়ড়া গ্রামে সক্রিয় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও চক্রগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয় এবং যুবসমাজকে এই ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়








