1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে উদ্ধারকৃত ৫০টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর নরসিংদীর মাধবদী হাটে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালিত পেশাদারী রাজনীতিতে বিপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার মানবতা – আল আমিন মিলু প্রতিটি ক্ষেত্রেই সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি এর শেষ কোথায়?? আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও কৃষকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত ফুলপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার “মায়ার দুনিয়া, চিরন্তন সত্য মৃত্যু” পোরশায় মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশং সভা অনুষ্ঠিত খুলনা রূপসা টোলপ্লাজা হতে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬

সংবাদ সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

 

প্রদীপ চন্দ্র মম নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাষ্ট্র যখন নিজের সাফল্যের গল্প নিজেই লিখতে শুরু করে, তখন সত্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব আরও বেশি করে এসে পড়ে সাংবাদিকের কাঁধে। কারণ সংবাদ কোনো শাসকের প্রশংসাপত্র নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য মাধ্যম। আর সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়—এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অন্যতম ভিত্তি।

বাংলাদেশ আজ এক বৈপরীত্যের সময় অতিক্রম করছে। একদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ডিজিটাল রূপান্তরের দৃশ্যমান সাফল্য; অন্যদিকে দুর্নীতি, বৈষম্য, বেকারত্ব, পরিবেশগত সংকট, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবতার কতটুকু সংবাদে যথাযথভাবে উঠে আসে, আর কতটুকু আড়ালে থেকে যায়—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি সত্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদ নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের চাপে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কোথাও মালিকানাগত প্রভাব, কোথাও বিজ্ঞাপননির্ভরতা, কোথাও ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আনুগত্য—এসব কারণে কখনো কখনো সংবাদ তার জনস্বার্থকেন্দ্রিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়। তখন সংবাদ মানুষের ভাষা না হয়ে ক্ষমতার সুবিধাজনক বয়ানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

ডিজিটাল যুগে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব মুহূর্তের মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, অথচ একটি তথ্য যাচাই করে নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ করতে সময়, শ্রম ও পেশাগত সততার প্রয়োজন হয়। তাই দ্রুততার প্রতিযোগিতার চেয়ে নির্ভুলতার প্রতি অঙ্গীকারই সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আস্থার সংকট। একই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন উপস্থাপন অনেক সময় পাঠকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সংবাদ যদি অতিমাত্রায় মতাদর্শ, পক্ষপাত বা স্বার্থের প্রভাবে পরিচালিত হয়, তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে। অথচ একটি সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রযুক্তি, ভবন বা অবকাঠামো নয়; বরং পাঠক ও দর্শকের অর্জিত আস্থা।

স্থানীয় সাংবাদিকতার গুরুত্বও অপরিসীম। রাজধানীর বাইরের সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, নদী দখল, ভূমি-দুর্নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা কিংবা কৃষকের দুর্ভোগ—এসব বিষয় প্রথমে তুলে ধরেন স্থানীয় সাংবাদিকরাই। কিন্তু তাঁদের অনেকেই পর্যাপ্ত সম্মানী, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। যারা মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো প্রচারনির্ভরতা। আলোচিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় কখনো কখনো গভীর অনুসন্ধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক প্রচারণা বেশি গুরুত্ব পায়। ক্যামেরার সামনে সরব হওয়া তুলনামূলক সহজ; কিন্তু নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করা, তথ্য যাচাই করা এবং দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে একটি নির্ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা অনেক বেশি কঠিন। ফলে অনেক সময় ব্যক্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, অথচ প্রকৃত সমস্যা আড়ালেই থেকে যায়।

এই বাস্তবতায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার খুব কম ক্ষেত্রেই নিজে থেকে প্রকাশ পায়; এগুলোকে তথ্য, প্রমাণ ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে আনতে হয়। একটি শক্তিশালী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেবল একটি অনিয়ম প্রকাশ করে না; এটি রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে সাংবাদিকতার আত্মসমালোচনাও সমান জরুরি। অপেশাদারিত্ব, তথ্য যাচাইয়ে অবহেলা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন, ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড—এসব আচরণ পুরো পেশার মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সাংবাদিকতার শুদ্ধি ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার উদ্যোগ সাংবাদিক সমাজের ভেতর থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি সাংবাদিকতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ, ডেটা সাংবাদিকতা এবং দ্রুত তথ্যপ্রক্রিয়াকরণে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো প্রযুক্তিই সাংবাদিকের বিবেক, মানবিকতা, নৈতিকতা ও পেশাগত সততার বিকল্প হতে পারে না।

সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও দ্রুত বদলাচ্ছে। ছাপা পত্রিকার পাঠক কমছে, বিজ্ঞাপনের বড় অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। তবুও ইতিহাস বলে, মাধ্যম পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও সত্যভিত্তিক সাংবাদিকতার প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না।

বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার ক্ষেত্রও বিস্তৃত। তরুণ জনগোষ্ঠী, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নাগরিক সচেতনতার বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দেশের গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে এর জন্য স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, সমালোচনার পাশাপাশি তথ্যনির্ভরতা, সাহসের পাশাপাশি সততা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চা অপরিহার্য।

একটি রাষ্ট্র তখনই সুস্থ ও কার্যকর থাকে, যখন সংসদ জবাবদিহি নিশ্চিত করে, বিচারব্যবস্থা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে এবং সংবাদমাধ্যম নির্ভয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে পারে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো একটি দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে। কারণ ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায়ই কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; বরং আড়ালে থাকা বাস্তব সত্য।

সাংবাদিকতার কলম যদি স্বার্থের কাছে নত হয়, তবে গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যম যদি জনস্বার্থের পরিবর্তে ক্ষমতা বা প্রভাবের মুখপত্রে পরিণত হয়, তবে মানুষের আস্থা ক্ষয়ে যায়। আর বাস্তব সত্য যদি ভয়, চাপ বা স্বার্থের কারণে আড়ালেই থেকে যায়, তবে বিভ্রান্তিই একসময় জনমতকে পরিচালিত করতে শুরু করে।

তাই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এমন সাংবাদিকতা, যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অন্ধ আনুগত্যে নয়, বরং সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও জনস্বার্থের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে। কারণ একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম কেবল খবর প্রকাশ করে না; এটি জাতির বিবেককে জাগ্রত রাখে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণ করে। সংবাদ, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র তাই কেবল গণমাধ্যমের উপাদান নয়; এগুলো একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
লেখক : প্রদীপ চন্দ্র মম, কবি ও সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট