1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পেশাদারী রাজনীতিতে বিপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার মানবতা – আল আমিন মিলু প্রতিটি ক্ষেত্রেই সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি এর শেষ কোথায়?? আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব ও কৃষকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত ফুলপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার “মায়ার দুনিয়া, চিরন্তন সত্য মৃত্যু” পোরশায় মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশং সভা অনুষ্ঠিত খুলনা রূপসা টোলপ্লাজা হতে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ ফুলপুরে বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ফুলপুরে জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি উদ্যোগে ফুলপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পেশাদারী রাজনীতিতে বিপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার মানবতা – আল আমিন মিলু

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোর একটি। বিশাল তরুণ জনসংখ্যা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, উর্বর কৃষিভূমি এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, আয় বৈষম্য, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমার পর্যবেক্ষণে, দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতির চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় রাজনীতি ছিল আদর্শ, ত্যাগ, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আজও বহু মানুষ সেই আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করেন। কিন্তু একই সঙ্গে এমন প্রবণতাও দেখা যায়, যেখানে রাজনীতি কিছু মানুষের কাছে জীবিকা, সামাজিক প্রভাব বা ক্ষমতার পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বাস্তবতার পেছনে দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর বিভিন্ন বিশ্লেষণ দেখায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও যুবসমাজের বেকারত্ব, অপ্রতুল কর্মসংস্থান, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ এবং দক্ষতার সঙ্গে চাকরির অমিল একটি বড় সমস্যা। অনেক তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করেও উপযুক্ত কাজ পান না বা তাদের যোগ্যতার তুলনায় নিম্নমানের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

যখন রাষ্ট্র একজন তরুণকে তার মেধার উপযুক্ত কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সে বিকল্প পথ খোঁজে। কেউ বিদেশে যায়, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত হয়, আবার কেউ রাজনীতিকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। এখানে সমস্যা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নয়; বরং সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন রাজনৈতিক পরিচয়ই অর্থনৈতিক সুযোগ, চাকরি, প্রভাব বা সুবিধা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

এর ফলে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির জায়গা দখল করতে শুরু করে সুবিধাভিত্তিক রাজনীতি। জনসেবা নয়, ব্যক্তিস্বার্থ অগ্রাধিকার পায়। যোগ্যতার পরিবর্তে আনুগত্য মূল্য পেতে শুরু করে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক সময় দক্ষ, চিন্তাশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তে প্রভাবশালী অনুসারী তৈরিতে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে।

এই সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। কারণ রাষ্ট্রের নীতি তখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়তে পারে। নাগরিকদের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায়, আর গণতন্ত্রের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের অসন্তোষ, কর্মসংস্থানের দাবি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ যুব বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিশ্লেষিত হয়েছে।

তবে সব দায় রাজনীতির নয়। রাজনীতি যেমন সমাজকে প্রভাবিত করে, তেমনি সমাজ ও অর্থনীতির সংকটও রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। তাই সমস্যার সমাধানও একমাত্রিক হতে পারে না।

প্রথমত, রাষ্ট্রকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শুধু সনদ নয়, দক্ষতা অর্জনই হতে হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতিকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নেতৃত্বের মূল্যায়ন হবে সততা, দক্ষতা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে।

চতুর্থত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করতে হবে। কারণ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে।

সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের রাজনীতিকে আবারও আদর্শের কাছে ফিরিয়ে নিতে হবে। রাজনীতি যদি ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা হয়ে যায়, তবে মানবতা হারায়। কিন্তু রাজনীতি যদি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও কল্যাণের হাতিয়ার হয়, তবে একটি জাতি এগিয়ে যায়।

দক্ষিণ এশিয়ার সামনে আজ দুটি পথ খোলা। একটি পথ বিভাজন, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সুবিধাবাদের; অন্যটি কর্মসংস্থান, সুশাসন, জবাবদিহি এবং মানবিক রাজনীতির। কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, সেটিই আগামী প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু কোনো রাজনৈতিক মতবাদ নয়; মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের মেধা অবহেলিত হয়, পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় না, আর ক্ষমতা জনগণের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়।

তাই দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থানের বিপ্লব, নৈতিক নেতৃত্বের উত্থান এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতির পুনর্জাগরণ। কারণ যে রাজনীতি মানুষের জীবন বদলায়, সেই রাজনীতিই সভ্যতার চালিকাশক্তি; আর যে রাজনীতি মানুষকে কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, ইতিহাস একদিন তাকে প্রত্যাখ্যান করে।

“ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানবতা চিরস্থায়ী। যে রাজনীতি মানবতাকে রক্ষা করে, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই রায় দেয়।”

— আল আমিন মিলু
লেখক | কলামিস্ট | রাজনৈতিক বিশ্লেষক | গবেষক

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট