
নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজের প্রতিটি স্তরে একজন সাংবাদিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্যকে তুলে ধরা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠাই একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সমাজের মানুষ একজন সাংবাদিককে কিভাবে দেখে? তাদের মনে সাংবাদিকদের নিয়ে কী ধারণা কাজ করে?
অনেকের চোখে সাংবাদিক মানেই সাহসী একজন মানুষ। যিনি ভয়কে জয় করে সত্য প্রকাশ করেন, ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। গ্রাম থেকে শহর—যেখানেই অন্যায়, সেখানেই যেন সাংবাদিকের উপস্থিতি। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের একজন ন্যায়বিচারের সৈনিক হিসেবে দেখে। তারা বিশ্বাস করে, সাংবাদিকরা থাকলে সত্য চাপা পড়ে না, অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
তবে বাস্তবতার আরেকটি দিকও আছে। কিছু মানুষের কাছে সাংবাদিকদের প্রতি আস্থার জায়গাটি আগের মতো শক্ত নেই। কারণ সময়ের সাথে সাথে কিছু অসৎ ব্যক্তির কর্মকাণ্ড এই পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যক্তি স্বার্থে বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্ব করা হয়। এতে করে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়—সাংবাদিক কি সত্যিই নিরপেক্ষ?
আবার অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকরা অনেক সময় ক্ষমতাবানদের সঙ্গে আপস করে চলে। ফলে প্রকৃত সত্য সবসময় প্রকাশ পায় না। এই ধারণা সমাজে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা একজন সৎ ও আদর্শ সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে সবকিছুর পরেও একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—সমাজ এখনও সাংবাদিকদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। মানুষ চায়, সাংবাদিকরা যেন নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশ করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। একজন সাংবাদিকের একটি প্রতিবেদন অনেক সময় একটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে পারে, একটি সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে।
একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের আয়নার মতো। তিনি যা দেখেন, তাই তুলে ধরেন। তার কলমে থাকে সত্যের শক্তি, তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে বাস্তবতার নির্মম চিত্র। তাই সমাজের মানুষ সাংবাদিকদের শুধু একজন পেশাজীবী হিসেবে নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবেও দেখে।
এই বিশ্বাস ধরে রাখা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত নৈতিকতা। একজন সাংবাদিক যদি নিজের আদর্শে অটল থাকে, তাহলে সমাজ তার প্রতি আস্থা রাখবে, সম্মান দেবে। আর যদি সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটে, তাহলে সেই আস্থা ভেঙে পড়তে সময় লাগে না।
পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিকদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি একমুখী নয়—এতে যেমন শ্রদ্ধা আছে, তেমনি সন্দেহও রয়েছে। তবে একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকই পারে এই দ্বিধা দূর করে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে। কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই সত্যের পথপ্রদর্শক একজন প্রকৃত সাংবাদিক।