
রমজান আলী (ধনবাড়ী সংবাদদাতা)
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এক আদম ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মারধর, মুক্তিপণ দাবি এবং চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদম ব্যবসায়ী মোঃ আপেল গত ১৫ জুন টাঙ্গাইল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের পঞ্চাশী চানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আপেল পূর্বে সৌদি আরবে অবস্থানকালে এলাকার বিভিন্ন লোককে বিদেশে পাঠানোর কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা নলিনপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
একই এলাকার পঞ্চাশী কাওয়ামারা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সোহানুর রহমান সুমন ২০২৪ সালে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য আপেলের সঙ্গে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। এর মধ্যে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয় এবং বাকি ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা যাওয়ার পূর্বে দেওয়ার কথা ছিল।
২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ফ্লাইট নির্ধারিত থাকলেও আগের দিন সুমন বিদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ মে সোহানুর রহমান সুমন, কামাল হোসেন, বিদ্যুৎ, মাজেদসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে আপেলকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নারায়ণগঞ্জের ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির চাপে আপেল তার স্ত্রী জেসমিন ও বাসার মালিক রজব আলীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকের পাতা, স্ট্যাম্প, কার্টিজ পেপার ও সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে আরও ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি আমলে নিয়ে টাঙ্গাইল আদালত পূর্ণ তদন্তের জন্য ধনবাড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সোহানুর রহমান সুমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদেশে নেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুত কোম্পানিতে চাকরি না পাওয়ায় তিনি বিদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।