
কবিতা
তুমি বড় হবে হও,
অর্থে বড় হও,
সম্পদের পাহাড় গড়ো,
সোনার প্রাসাদে বসে
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ধরো।
বিত্ত-বৈভবে মত্ত হয়ে
আসমানের পথে হাঁটো,
চাঁদের গায়ে হাত বাড়িয়ে
নিজের নামটি লেখো।
তোমার পথে কাঁটা এলে
আমি কাঁটা সরাবো,
তুমি যদি চাও আকাশ ছুঁতে
নিজের হাত বাড়াবো।
তোমার সুখে নেই ঈর্ষা,
নেই কোনো অভিযোগ,
তোমার উত্থান হোক—
তবু আমার ঘরে
দিও না দুঃখের যোগ।
আমার ঘরে ডাল-ভাত জোটে,
সেই ভাতেই সুখ,
অন্যের অন্ন কেড়ে নিয়ে
চাই না রাজমুকুট।
আমার সোজা চলার পথে
কাঁটা পুঁতিও না,
আমার শান্ত নদীর বুকে
পাথর ছুড়ো না।
নীরব বলে ভেবো না গো
আমি বুঝি ভয়ে ভীতু
অন্যায়ের সীমা পেরুলে
নীরবতাও রয়না মৃত।
আমার ঘরটা ছোট হতে পারে,
ছোট নয় সম্মান,
ঘামের দামে কেনা অন্নে
জেগে থাকে প্রাণ।
তুমি পাহাড় হও,
আমি মাটির মানুষ,
তুমি সাগর হও,
আমি নদীর মতো শান্ত।
তবে যদি আমার সামান্যটুকু
ছিনিয়ে নিতে চাও,
মনে রেখো—এই নীরব মানুষ
আগুনও হতে জানে,
প্রতিবাদের ভাষায়
আকাশ কাঁপাতে জানে।
তুমি বড় হবে—হও,
আমার তাতে ভয় নেই;
শুধু অন্যের চোখের জলে
তোমার প্রাসাদ গড়ো না,
অন্যের বুকের রক্তে
তোমার বিজয় লিখো না।
বড় হও—মানুষের মতো,
বড় হও—মানবতায়;
অন্যের ছোট্ট সুখটুকুও
রেখো তারই ছায়ায়।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর