
নিজস্ব প্রতিবেদক
তোরা পারিসনি—
মানুষের চোখে নতুন ভোরের সূর্য আঁকতে,
কিন্তু পারছিস
মিথ্যার কালো ধোঁয়ায়
আকাশ ঢেকে দিতে।
তোরা প্রতিশ্রুতির বীজ বুনেছিলি,
ফসল ফলেছে প্রতারণার;
স্বপ্নের নদী দেখিয়েছিলি,
মানুষ আজ হাঁটে
শুকিয়ে যাওয়া খালের বুকে।
যে হাত শপথ নিয়েছিল
ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে,
সেই হাতেই আজ
মূল্যতালিকার ধারালো ছুরি—
প্রতিদিন কেটে যাচ্ছে
গরিবের ভাতের থালা।
বাজার আজ আর বাজার নয়,
এ যেন ক্ষুধার আদালত;
প্রতিটি দোকান
একেকটি নীরব জল্লাদ,
আর প্রতিটি মূল্য
একেকটি রায়—
“বেঁচে থাকো, যদি পারো।”
ভ্যাটের নতুন শিকল
জড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের শ্বাসে,
করের ভারে নুয়ে পড়ছে
অপরাধহীন কাঁধ।
কিন্তু ক্ষমতার অট্টালিকায়
এখনও বাজে উৎসবের ঢাক।
তোরা ভুলে গেছিস—
ক্ষুধারও ভাষা আছে,
নীরবতারও বজ্রধ্বনি আছে,
অভিশপ্ত দীর্ঘশ্বাসও
একদিন ঝড় হয়ে ওঠে।
আমি আজ কবিতা লিখছি না—
আমি লিখছি
ফেটে যাওয়া মাটির আর্তনাদ,
কৃষকের রোদপোড়া হাতের শপথ,
শ্রমিকের ঘামে ভেজা রুটির দাবি,
মায়ের খালি হাঁড়ির কান্না।
শুনে রাখ—
ইতিহাস কখনো
ক্ষমতার ভাষায় লেখা হয় না;
ইতিহাস লেখা হয়
মানুষের চোখের জলে,
রক্তাক্ত বিবেকে,
আর প্রতিরোধের আগুনে।
তোরা পারিসনি—
কারণ তোরা মানুষকে পড়িসনি।
মানুষের বুকের ভেতর
যে আগ্নেয়গিরি ঘুমিয়ে থাকে,
তার বিস্ফোরণ
কোনো সিংহাসন থামাতে পারে না।
একদিন
সব মিথ্যার মুখোশ খুলে যাবে,
সব স্লোগান ধুলোর মতো উড়ে যাবে,
শুধু মানুষের রায়টুকুই
সময়ের পাথরে খোদাই হয়ে থাকবে।
সেদিন ইতিহাস বলবে—
তোরা ক্ষমতা পেয়েছিলি,
কিন্তু মানুষের হৃদয় জয় করতে পারিসনি।
— আল আমিন মিলু
লেখক | কলামিস্ট | রাজনৈতিক বিশ্লেষক | গবেষক
সরিষাবাড়ী, জামালপুর