
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনীতি—শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্ষমতা, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জনসেবার এক বিশাল ক্ষেত্র। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাজনীতি কি সত্যিই মানুষের সেবা করার একটি মহৎ পথ, নাকি এটি অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ ব্যবসার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজকের আলোচনা।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রাচীনকাল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার যে ধারণা, তার কেন্দ্রে ছিল মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। ইতিহাসে আমরা এমন অনেক নেতার উদাহরণ পাই, যারা রাজনীতিকে সেবার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের জন্য।
কিন্তু বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বর্তমান সময়ে রাজনীতির একটি বড় অংশ যেন ক্ষমতা অর্জন ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই রাজনীতিকে ব্যবহার করছেন অর্থ উপার্জনের সহজ পথ হিসেবে। অবৈধ টেন্ডার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি—এসব শব্দ আজ রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে, যা এক সময় কল্পনাও করা যেত না।
এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? প্রশ্নটি সহজ হলেও উত্তরটি জটিল। একদিকে যেমন কিছু অসৎ রাজনীতিবিদ রাজনীতিকে কলুষিত করছেন, অন্যদিকে সমাজের কিছু অংশও এর জন্য দায়ী। আমরা যখন যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থ বা প্রভাব দেখে কাউকে সমর্থন করি, তখন আমরাও অজান্তেই এই অপসংস্কৃতিকে উৎসাহ দিই। ফলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব পিছিয়ে পড়ে, আর অসৎরা সামনে চলে আসে।
তবে এটি সত্য যে, রাজনীতি পুরোপুরি খারাপ কিছু নয়। বরং এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব। সঠিক নেতৃত্ব এবং সৎ উদ্দেশ্য থাকলে রাজনীতি হতে পারে পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। রাজনীতিকে যদি আমরা শুধুমাত্র ক্ষমতা ও অর্থের উৎস হিসেবে দেখি, তাহলে এটি অবশ্যই অবৈধ ব্যবসার রূপ নেবে। কিন্তু যদি আমরা এটিকে মানুষের সেবার একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে রাজনীতি আবার তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।
তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা এবং সৎ রাজনীতিকে উৎসাহিত করা। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে। কারণ তারাই পারে একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে।
শেষ কথা হলো—রাজনীতি নিজে খারাপ নয়, খারাপ হয় মানুষের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার। এটি যেমন হতে পারে সেবার মহান পথ, তেমনি হতে পারে অবৈধ ব্যবসার হাতিয়ার। পছন্দটা আমাদের—আমরা কোন পথে রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই।