
নিজস্ব প্রতিবেদক
সফল হতেই হবে।
কারণ এই পৃথিবী সূর্য উঠলে তাকে প্রণাম করে, কিন্তু সারারাত অন্ধকারের সঙ্গে তার যুদ্ধের ইতিহাস পড়ে না। মানুষ ফলভরা বৃক্ষের ছায়ায় বসে, কিন্তু সেই বৃক্ষের শিকড় কতটা পাথর ভেদ করে উঠে এসেছে—তার খবর রাখে না।
তাই হাসুক মানুষ। উপহাসের তীর ছুড়ুক। তোমাকে পাগল বলুক, ব্যর্থ বলুক, অবাস্তব স্বপ্নবাজ বলুক। মনে রেখো, ঈগল যখন মেঘ ছিঁড়ে আকাশে ওঠে, তখন কাকেরা তার সঙ্গে উড়তে পারে না—শুধু নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে।
অপমানকে গলিয়ে তলোয়ার বানাও, প্রত্যাখ্যানকে বানাও ঢাল, আর চোখের জলকে বানাও বারুদের আগুন। কারণ ইতিহাস কখনো আরামকেদারায় বসে লেখা হয় না; ইতিহাস লেখা হয় ক্ষতবিক্ষত পায়ের রক্তে, ভাঙা হৃদয়ের ধৈর্যে, আর হাজার অপমানের ছাই থেকে জেগে ওঠা ফিনিক্সের ডানায়।
মনে রেখো, হীরে জন্ম নেয় না ফুলের বাগানে; জন্ম নেয় পৃথিবীর গভীরতম অন্ধকারে, অসীম চাপ সহ্য করে। নদীও সাগরে পৌঁছায় না কারও অনুমতি নিয়ে; সে পাহাড় ভাঙে, পাথর ক্ষয় করে, নিজের পথ নিজেই তৈরি করে। তুমিও তেমন হও—পথ না থাকলে পথ সৃষ্টি করো।
আজ যারা তোমার স্বপ্ন দেখে হাসছে, কাল তারাই তোমার সফলতার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে চাইবে। আজ যারা তোমাকে অবহেলা করছে, কাল তারাই তোমার একটি পরিচয়ের জন্য অপেক্ষা করবে। এটাই পৃথিবীর নিয়ম—উদীয়মান সূর্যকে সবাই স্বাগত জানায়, অস্তগামী প্রদীপের পাশে খুব কম মানুষই দাঁড়ায়।
তাই থেমো না। পৃথিবীর করতালির জন্য নয়, নিজের বিবেকের সামনে বিজয়ী হওয়ার জন্য লড়ো। এমন উচ্চতায় পৌঁছাও, যেখানে তোমার সফলতার বজ্রধ্বনি শুনে একদিন উপহাসকারীদের কণ্ঠ নিজেই নীরব হয়ে যায়।
কারণ পৃথিবী তোমার অজুহাত মনে রাখবে না—পৃথিবী মনে রাখবে তোমার জয়।
সুতরাং, জ্বলো… পুড়ো… লড়ো… তারপর এমনভাবে সফল হও, যেন তোমার জীবনই হয়ে ওঠে অসম্ভবকে সম্ভব করার সবচেয়ে উজ্জ্বল উপমা।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর