1. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  2. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদে কারবালা: ত্যাগ, সত্য ও চিরন্তন প্রেরণার ইতিহাস ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য করনীয় বর্জনীয় নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ইব্রাহিম নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার গোদাগাড়ী ও বাঘায় পুলিশের জোড়া অভিযানে মাদক, প্রাইভেটকারসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সাঁথিয়ার সেই স্কুলকে সংবর্ধনা অপরাধ দমনে শুধু গ্রেপ্তার নয়, কার্যকর বিচারও জরুরি কলমে:আল আমিন মিলু কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কাজিপুরে আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র আশুরা /মহরম এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সমাজের চোখে একজন সাংবাদিক—বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও বাস্তবতার গল্প প্রতিবাদের আড়ালে প্রশ্রয়—মাদক নির্মূলের বাস্তব পথ কোথায়?”

ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য করনীয় বর্জনীয়

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। এই দিনটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আশুরার গুরুত্ব কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং সাহাবীদেরও রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন— “আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।” (সহিহ মুসলিম)। এ থেকেই বোঝা যায়, এই দিনের আমল আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়।

ঐতিহাসিকভাবে আশুরা দিনটি বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। এর মধ্যে অন্যতম হলো হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর কওমের মুক্তি লাভ। আল্লাহ তাআলা এই দিনে ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করেন এবং মূসা (আ.)-কে বিজয় দান করেন। এজন্য কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মূসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখেন। পরবর্তীতে রাসূল (সা.) এই আমলকে সমর্থন করেন এবং মুসলিম উম্মাহকেও তা অনুসরণ করতে বলেন।

কিন্তু আশুরার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা। ৬১ হিজরিতে এই দিনে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। অত্যাচারী শাসকের কাছে মাথা নত না করে তিনি ইসলামের প্রকৃত আদর্শকে রক্ষা করেছেন নিজের জীবন উৎসর্গ করে।

কারবালার এই ঘটনা আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষা। এটি আমাদের শিখায়— সত্যের পথে চলতে গেলে যত বাধাই আসুক, কখনো পিছপা হওয়া যাবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর জীবনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, ঈমানের শক্তি কখনো জুলুমের কাছে হার মানে না।

আশুরা শুধু শোকের দিন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি সুযোগ। এই দিনে রোজা রাখা, বেশি বেশি নফল ইবাদত করা, দান-সদকা করা এবং নিজের গুনাহ থেকে তওবা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এই দিনটি আমাদের আত্মসমালোচনা ও নতুন করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার প্রেরণা দেয়।

তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, আশুরা পালনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা কুসংস্কার ইসলামে সমর্থিত নয়। শোক প্রকাশের নামে নিজেকে কষ্ট দেওয়া বা অতিরঞ্জিত আচরণ করা ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে বিচ্যুত করে। বরং আমাদের উচিত, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংযম ও সঠিক পন্থায় এই দিনটি পালন করা।

সবশেষে বলা যায়, পবিত্র আশুরা আমাদের জন্য একটি শিক্ষা, একটি অনুপ্রেরণা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা, আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই আসুন, আমরা আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করি এবং নিজেদের জীবনকে ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী গড়ে তুলি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট