
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা। কিন্তু বাংলাদেশের কোটি মানুষের জন্য ঈদ এখন শুধু ঘরে ফেরার সংগ্রাম নয়, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরাও আরেকটি দুর্ভোগের নাম। প্রতিবছর একই অভিযোগ ওঠে—পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সংকট, যাত্রী হয়রানি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা।
ঈদের আগে মানুষ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে চায়। আর ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসতে হয়। এই দুই যাত্রাপথেই যাত্রীদের বড় একটি অংশকে অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা বহন করতে হয়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ যেন এখন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেও প্রয়োজনের তাগিদে শেষ পর্যন্ত সেই অন্যায্য ভাড়া দিয়েই যাত্রা করতে বাধ্য হন।
প্রশ্ন হলো, এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয় কীভাবে? পরিবহন খাত কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, নাকি তদারকির অভাবেই কিছু অসাধু ব্যক্তি বারবার একই সুযোগ গ্রহণ করছে? জনগণ দেখতে পায়, ভাড়া নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে; কিন্তু কার্যকর প্রতিকার খুব কমই চোখে পড়ে।
ঈদের সময় ঘরে ফেরা যেমন নাগরিকের অধিকার, তেমনি নিরাপদ ও ন্যায্য ভাড়ায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়াও তার অধিকার। একজন শ্রমিক, গার্মেন্টসকর্মী, চাকরিজীবী কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার জীবনই এই যাতায়াতের সঙ্গে জড়িত। অতিরিক্ত ভাড়া তাদের পারিবারিক বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং উৎসবের আনন্দকে অনেকাংশে ম্লান করে দেয়।
জনগণ আশা করে, পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আইন যদি শুধু কাগজে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কখনোই কমবে না।
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন মানুষ নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারবে এবং ছুটি শেষে একই স্বস্তিতে কর্মস্থলেও ফিরে যেতে পারবে। জনগণের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়—শুধু ন্যায্য ভাড়া, নিরাপদ যাত্রা এবং দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা। এই প্রত্যাশা পূরণ করাই হওয়া উচিত একটি জনবান্ধব রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর