
কবিতা
পারলাম না—
ডায়েরির শেষ পাতায়
নিংড়ানো ব্যথাগুলো লিখে
শেষ করতে পারলাম না।
সারা ডায়েরির অসংখ্য পাতায়
যে সুখগুলোকে যত্ন করে লিখেছিলাম,
তাদের প্রতিটি হাসির কোনায়
লুকিয়ে ছিল একেকটি দীর্ঘশ্বাস—
আমি সেদিন বুঝিনি।
আজ সেই লুকানো ব্যথাগুলো
এক এক করে বেরিয়ে এসে
শেষ পাতাটাকে দখল করে নিয়েছে।
একটা ব্যথাকে জায়গা দিতে গিয়ে
আরেকটা ব্যথা দরজায় দাঁড়ায়,
তার পেছনে আসে স্মৃতি,
স্মৃতির পেছনে আসে অভিমান,
আর অভিমানের হাত ধরে
ফিরে আসে—
হারিয়ে যাওয়া কিছু মুখ।
শেষ পাতাটা ভরে যায়,
তবু ব্যথা ফুরোয় না।
একটা ডায়েরি শেষ হয়ে যায়,
তারপর আরেকটা কিনি—
ভেবেছিলাম, এবার বুঝি
সব কথা লিখে শেষ করব।
কিন্তু না…
কয়েকটা ডায়েরি
শুধু কাগজে শেষ হয়েছে,
আমার ভেতরের গল্প
কোনোদিন শেষ হয়নি।
যে কথাগুলো তোমাকে বলা হয়নি,
যে কান্নাগুলো চোখে আসার আগেই
বুকের ভেতর শুকিয়ে গেছে,
যে ভালোবাসা
অভিমান হয়ে আজও
নিঃশব্দে বেঁচে আছে—
তাদের জন্য
কোনো শেষ পাতা নেই।
তাই আজ
ডায়েরির শেষ পাতায় লিখলাম শুধু—
“শেষ করতে পারলাম না…”
তারপর কলমটা নামিয়ে রাখলাম।
পাতাটা সাদা রইল—
শুধু সাদার ভেতর
এক সমুদ্র কালো ব্যথা।
হয়তো কোনো একদিন
আমার ডায়েরিগুলোও পুরোনো হয়ে যাবে,
পাতাগুলো হলুদ হবে,
কালির দাগ মুছে যাবে…
কিন্তু কেউ যদি কোনোদিন
শেষ পাতাটা খুলে দেখে—
সে দেখবে,
সেখানে কোনো লেখা নেই,
শুধু একজন মানুষের
শেষ না হওয়া কষ্ট
পাতার পর পাতা
নিজের জন্য জায়গা খুঁজছে।
আর তখন হয়তো সে বুঝবে—
সব গল্পের শেষ হয় না,
কিছু গল্প
শেষ পাতা খুঁজতে খুঁজতেই
একদিন মানুষটাকেই
শেষ করে দেয়।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর