
কবিতা
তোমাকে ভুলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা
প্রতিদিনই নিই—
তারপর রাত নামলেই
নিজের কাছেই হেরে যাই।
তোমার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো
মুছে ফেলতে গিয়ে বুঝেছি,
কিছু দাগ কাগজে থাকে না,
থাকে মানুষের ভেতরে।
এখনও হঠাৎ
নির্জন ঘরে তোমার নামটা মনে পড়ে,
কেউ ডাকে না—
তবু বুকের ভেতর
একটা দরজা খুলে যায়।
তুমি নেই—
এই শূন্যতারও যেন ওজন আছে।
বালিশে মুখ লুকিয়ে
যতটা কান্না চাপা যায়,
তার চেয়েও বেশি কান্না
চোখের বাইরে জমে থাকে।
তোমার সঙ্গে কাটানো দিনগুলো
এখন আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি।
যে স্মৃতিগুলো একদিন
বাঁচার কারণ ছিল,
আজ তারাই
বেঁচে থাকার সবচেয়ে কঠিন কারণ।
তুমি হয়তো ভুলেই গেছ—
আমার ভেতর দিয়ে
একটা মানুষ চলে যাওয়ার অর্থ কী।
তুমি শুধু চলে গেছ,
আর আমি পড়ে আছি
তোমার অনুপস্থিতির ধ্বংসস্তূপে।
কখনো মনে হয়,
আর যদি একবার ফিরে আসতে—
অভিমান করতাম না,
অভিযোগও নয়;
শুধু তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
নীরবে জেনে নিতাম—
আমি কি সত্যিই এতটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলাম?
রাত শেষের দিকে
আকাশ একটু একটু করে ফিকে হয়,
পাখিরা ফিরে পায় তাদের সকাল।
শুধু আমার ভেতর
ভোর নামে না।
কারণ তোমাকে হারানোর পর
বুঝেছি—
সব রাতের শেষেই সকাল আসে না,
কিছু রাত মানুষকে
সারাজীবন ভেতর থেকে অন্ধকার করে রাখে।
আজও তাই অপেক্ষা করি—
তোমার ফেরার জন্য নয়,
নিজেকে একদিন
তোমার স্মৃতি থেকে মুক্ত করার জন্য।
কিন্তু সেই দিনটি
কোনো ক্যালেন্ডারে নেই।
যেখানে বিদায় হয়ে যায়-
ভালোবাসা
বিদায় নিতে পারে না
স্মৃতির অক্ষর গুলো
আসেনা”ভালোবাসার শেষ প্রহর”
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর