1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

শর্ত ভঙ্গ করায় নতুন দামে গ্যাসের বিল দিতে রাজি নয় বিসিআইসি; ৪ সার কারখানায় বন্ধ উৎপাদন

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে দাম বাড়ানো হলেও তা পূরণ হয়নি। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বর্ধিত দামে প্লান্ট সংরক্ষণের গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোকে। এতে চারটি ইউরিয়া সার কারখানার ওপর বাড়ছে আর্থিক চাপ।

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি পেট্রোবাংলা। অথচ উৎপাদন বন্ধ থাকার সময় প্লান্ট সংরক্ষণ (প্রিজারভেশন) কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের বিলও বর্ধিত দরে পরিশোধ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি)।

এ অবস্থায় প্লান্ট প্রিজারভেশনের কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সার পরিবর্তে আগের নির্ধারিত ১৬ টাকা করার দাবি জানিয়েছে বিসিআইসি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিল্পসচিবকে চিঠি দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ করা হয়েছে।

বিসিআইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। দেশে গ্যাসের সংকট থাকায় পেট্রোবাংলা সরবরাহ বন্ধ রাখলে বছরের উল্লেখযোগ্য সময় সার কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। তবে এসব কারখানায় ক্ষয়কারী রাসায়নিক ব্যবহৃত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করতে হয়।

বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি ইউরিয়া সার কারখানায় বছরে ন্যূনতম ১৮ লাখ টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩৩০ দিন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য বিসিআইসির জন্য অতিরিক্ত সাত কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয় পেট্রোবাংলা। অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির ফলে মিশ্রিত গ্যাসের গড় ব্যয় ২৮ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করে সার কারখানায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হয়।

বিইআরসির কারিগরি দলের মূল্যায়নে বলা হয়, অতিরিক্ত সাত কার্গো এলএনজি আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার কেনা দেশীয় ও আমদানিকৃত মিশ্রিত গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২১ টাকা ১৫ পয়সা। এরপর বিইআরসি আয়োজিত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণশুনানিতে বিসিআইসি জানায়, প্রতিদিন ১৯৭ এমএমসিএফডি গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হলে এবং বছরে ৩৩০ দিনের হিসাবে গ্যাসের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানো যেতে পারে। তবে দৈনিক ১৯৭ এমএমসিএফডির কম গ্যাস সরবরাহ করা হলে প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা দরে বিল দেওয়ার প্রস্তাব করে সংস্থাটি।

পেট্রোবাংলা মিশ্রিত গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য ২১ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করলেও বিইআরসি প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। একই সঙ্গে চারটি সার কারখানায় ৭০ শতাংশ লোডে বছরে ন্যূনতম ৩৩০ দিন গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এই শর্ত পূরণ করা হয়নি বলে দাবি করেছে বিসিআইসি।

সংস্থাটির দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি নীতিমালা অনুযায়ী উৎপাদনের পরিমাণের ভিত্তিতে সার কারখানাগুলো ভর্তুকি পায়। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে সার উৎপাদন সম্ভব হয় না। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যয় অব্যাহত থাকে। এর সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় ব্যবহৃত গ্যাসের বর্ধিত বিল যুক্ত হওয়ায় কারখানাগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চারটি সার কারখানা প্লান্ট প্রিজারভেশনের কাজে মোট ৪ কোটি ৬৬ লাখ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেছে। প্রতি ঘনমিটার ২৯ টাকা ২৫ পয়সা দরে এই গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর আগের নির্ধারিত ১৬ টাকা দরে মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুধু প্লান্ট সংরক্ষণের গ্যাসেই প্রায় ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব দাঁড়ায়।

বিসিআইসি জানিয়েছে, গত অর্থবছরে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানা ৩২ দিন, শাহজালাল সার কারখানা ৪৪ দিন, যমুনা সার কারখানা ১৬৪ দিন এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানা ১৭৩ দিন বন্ধ ছিল।
বিসিআইসির দাবি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে ২০২২ সালে সার কারখানাগুলোর গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়। কিন্তু এরপরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত সাত কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়ে বছরে ৩৩০ দিন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে সার খাতে গ্যাসের দাম আরও বাড়িয়ে ২৯ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

বিসিআইসির যুক্তি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রত্যাশায় তারা বর্ধিত মূল্য মেনে নিয়েছিল। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না করেও বর্ধিত মূল্যে বিল দাবি করা হচ্ছে। এতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত কারখানাগুলোকে গ্যাস খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছে বিসিআইসি।

বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ : এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্যাসের ঘাটতি মূলত জাতীয় সরবরাহব্যবস্থার সামগ্রিক সমস্যা। তবে বর্ধিত গ্যাসের দাম এবং গ্যাসের অভাবে সার কারখানা বন্ধ থাকায় সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিইআরসি আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বা লাইসেন্সধারী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারে। অভিযোগ দাখিল হলে পূর্ণাঙ্গ কমিশন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টি শুনানি করে এবং মেরিটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্তে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট হলে আইন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) সুযোগও রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট