
নিজস্ব প্রতিবেদক
কবিতার উপাত্ত খুঁজতে গিয়ে
আমি মানুষের হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়ি।
প্রতিটি মুখ যেন এক একটি অসমাপ্ত উপন্যাস,
প্রতিটি চোখ—একটি নীরব সমুদ্র।
আমি শুধু একটি প্রশ্ন করি—
“তুমি কি সুখি?”
তারপর পৃথিবী ধীরে ধীরে
তার গোপন কান্নাগুলো খুলে দেয়।
কেউ বলে—
ভালোবাসার নদী শুকিয়ে গেছে বহু আগেই,
তবু প্রতিরাতে সে
স্মৃতির ভাঙা নৌকায় চেপে
হারানো মানুষের ঘাটে ফিরে যায়।
কেউ সংসারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে
নিজেকেই খুঁজে পায় না;
এক ছাদের নিচে থেকেও
তার জন্য কোনো আকাশ বরাদ্দ নেই।
কেউ ক্ষুধার সঙ্গে প্রতিদিন সন্ধি করে,
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে
নিজের স্বপ্নগুলো
নিঃশব্দে কবর দিয়ে আসে।
কেউ আবার
হাসির মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়,
অথচ বুকের ভেতর
একটি ভাঙা পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপ লুকিয়ে রাখে।
আমি অবাক হয়ে ভাবি—
তবে কি সুখ
কোনো ঠিকানাহীন পরিযায়ী পাখি,
যে মানুষের উঠোনে
ক্ষণিকের জন্য বসে,
তারপর অচেনা আকাশে মিলিয়ে যায়?
নাকি সুখ সেই শিশিরবিন্দু,
যাকে ছুঁতে গেলেই
রোদের উষ্ণতায় হারিয়ে যায়?
যত মানুষের গল্প শুনি,
তত বুঝি—
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ কবিতার নাম কষ্ট;
আর সবচেয়ে ছোট শব্দটির নাম আশা।
তবু আমি হাল ছাড়ি না।
আমি বিশ্বাস করি—
একদিন কোনো এক ভোরে
সূর্য শুধু আলো নয়,
মানুষের হৃদয়েও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেবে।
সেদিন হয়তো
আমাকে আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না—
“তুমি কি সুখি?”
কারণ মানুষের চোখেই ফুটে উঠবে উত্তর—
সুখ কোনো ধন-সম্পদের নাম নয়,
সুখ হলো একজন মানুষের পাশে
আরেকজন মানুষের নিঃস্বার্থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।
আর যদি সেদিনও
কেউ আমার কাছে জানতে চায়—
“তুমি কি সুখি?”
আমি বলব—
আমি সুখি নই,
তবু মানুষের কান্না কুড়িয়ে
কবিতা লিখে যাই;
কারণ হয়তো
একটি কবিতাই কোনো এক ভাঙা হৃদয়কে
আবার বেঁচে থাকার সাহস দিয়ে যেতে পারে।
— আল আমিন মিলু
::লেখক/কলামিস্ট /রাজনৈতিক বিশ্লেষক /গবেষক
সরিষাবাড়ি জামালপুর