তৃণমূল প্রশাসনে অদৃশ্য ‘দাসপ্রথা’: চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ব্যক্তিগত কামলা গ্রাম পুলিশ


রকিবুল ইসলাম লিংকন
গ্রামাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং দাপ্তরিক নোটিশ জারির দায়িত্বে থাকেন তারা। কিন্তু গায়ের খাকি পোশাকের আড়ালে দেশের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা (দফাদার ও মহল্লাদার) ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে কার্যত ‘গৃহভৃত্য’ বা ‘ব্যক্তিগত কামলা’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরকার তাদের মর্যাদা বাড়াতে ‘দফাদার’ পদ বদলে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ পদ বদলে ‘গ্রাম পুলিশ’ করলেও মাঠপর্যায়ে কাটেনি তাদের দুর্দশা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ডিউটির বাইরে গিয়ে এসব গ্রাম পুলিশকে দিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বাসাবাড়ির কাজ, হাটবাজার করা, ফসলি জমি চাষ করা এবং গবাদিপশু দেখাশোনার মতো ব্যক্তিগত কাজ করানো হয়। জনপ্রতিনিধিদের এসব অনৈতিক কাজ করতে অস্বীকার করলেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাম পুলিশ সদস্য জানান, চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের ব্যক্তিগত ফরমায়েশ না শুনলে চাকরিচ্যুত করা, মাসের পর মাস হাজিরা কেটে দেওয়া এবং সরকারি ভাতা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়। চাকরি হারানোর ভয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বহু সদস্য চুপচাপ এই অবহেলা ও নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে ইউপি চেয়ারম্যানদের হাতে গ্রাম পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে প্রহৃত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের সবচেয়ে তৃণমূলের চালিকাশক্তি এই গ্রাম পুলিশ। তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিদের অনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না করলে এই শোষণ বন্ধ হবে না। গ্রাম পুলিশদের মানবিক মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।








