দীর্ঘদিন পর ঐতিহ্য বাহী পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিন পর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবগঠিত পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক এর উদ্যোগে  অনুষ্ঠিত হয়েছে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ।প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে, 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ও বক্তব্য রাখেন,  পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচের ছাত্র ঢাকার বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মুর্শেদ,উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বিএসসি, শিক্ষক,মামুন, হুমায়ুন কবীর, সাকিলুর রহমান,ফারুক মন্ডল, জাহাঙ্গীর আলম, মুক্তাদি সহ  এলাকার গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশ ঘিরে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

একসময় সুনাম ও ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত সমন্বয় না থাকলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একযোগে কাজ করবেন। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে যদি শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশের ওপর।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  ফলে বিদ্যালয়ের হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

দীর্ঘদিন পর অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকে মনে করছেন, বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের একটি নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সভা-সমাবেশ আয়োজন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে যদি কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ধরন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়দের একাংশ প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার।  অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহবান জানিয়েছেন তারা। 

সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

শিক্ষার্থীরা কোনো পক্ষের বিরোধের শিকার হতে পারে না। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। তাই পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

 দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পোগলদিঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে? শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?এটি এখন দেখার বিষয়।  ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যেন ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরে এসে আবারও সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই এখন অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা।