সরিষাবাড়ীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ কোচিং সেন্টার, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের ঝড়


রকিবুল ইসলাম লিংকন
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরকারি নীতিমালা ও হাইকোর্টের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কিছু অসাধু শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম নামমাত্র হলেও মূল আকর্ষণ থাকে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোচিং বা প্রাইভেট ব্যাচ। নিয়মানুযায়ী কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। অথচ সরিষাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় এই নিয়মের প্রকাশ্য লঙ্ঘন ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নিজেদের কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করা হয়। সেখানে কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া বা নানাভাবে হেনস্থা করার ভয় দেখানো হয়।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে উঠেছে সাইনবোর্ডসর্বস্ব কোচিং সেন্টার। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এসব পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে উপজেলার নামী-দামী স্কুল ও কলেজগুলোর শিক্ষকদের একটি বড় অংশ এই ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।
ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একে তো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তার ওপর শিক্ষকদের এই অতিরিক্ত প্রাইভেট বা কোচিংয়ের খরচ মেটাতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নাভিশ্বাস উঠেছে। বাধ্য হয়ে ঋণ বা ধার-দেনা করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করায় এই অসাধু চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে এই অনৈতিক কোচিং বাণিজ্য বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়বাসী।








