জীবনের বাস্তবতা, সবকিছুর প্রতিশোধ নিতে নেই, কিছু বিচার মহান রবের ওপর ছেড়ে দিতে হয়


নিজস্ব প্রতিবেদক
জীবন চলার পথে আমরা অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। কেউ আমাদের ভালোবাসে, কেউ সম্মান করে, আবার কেউ কেউ আমাদের সরলতাকে দুর্বলতা মনে করে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ বিশ্বাস ভাঙে, কেউ মিথ্যা অপবাদ দেয়, আবার কেউ আমাদের নীরবতাকে পরাজয় ভেবে নিজের ক্ষমতা দেখাতে শুরু করে।
কিন্তু একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, জীবনের প্রতিটি আঘাতের জবাব দিতে নেই, প্রতিটি অপমানের প্রতিশোধ নিতে নেই। কিছু কষ্ট মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হয়।
কারণ, মানুষের বিচার সব সময় সঠিক নাও হতে পারে, কিন্তু মহান রবের বিচার থেকে কেউই চিরকাল আড়ালে থাকতে পারে না।
আপনাকে কেউ কষ্ট দিয়েছে বলে আপনাকেও তাকে কষ্ট দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেউ আপনার সঙ্গে অন্যায় করেছে বলে আপনাকেও অন্যায়ের পথে হাঁটতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং অনেক সময় নীরব থাকাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে অন্যায়ের জবাব না দেওয়াটাও এক ধরনের সাহস।
মনে রাখবেন, আপনি যখন প্রতিশোধের চিন্তায় নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন, তখন হয়তো সেই মানুষটি নিজের মতো করে জীবন কাটাচ্ছে। তাই অন্যের অন্যায়ের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
যে আপনাকে কাঁদিয়েছে, তার জন্য নিজের জীবন থামিয়ে রাখবেন না। বরং নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন, যেন একদিন আপনার সাফল্যই আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উত্তর হয়ে ওঠে।
জীবনে এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের আপনি যত বেশি বোঝানোর চেষ্টা করবেন, তারা তত বেশি আপনাকে দুর্বল ভাববে। আপনি যত বেশি তাদের ভুলগুলো ক্ষমা করবেন, তারা তত বেশি আপনার সহনশীলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
কিন্তু তাই বলে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে হবে, এমনটা নয়। কখনো কখনো দূরত্ব বজায় রাখাই উত্তম। যেখানে আপনার সম্মান নেই, সেখানে নিজেকে বারবার প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। যেখানে আপনার ভালোবাসার মূল্য নেই, সেখানে নিজের আবেগকে বারবার অপমানিত হতে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
আর একটা কথা মনে রাখবেন, কেউ যদি নিজের অহংকারে অন্ধ হয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতে থাকে, তাহলে তার প্রতিটি পদক্ষেপের জবাব দিতে যাবেন না। তাকে তার কাজের পরিণতি বুঝতে সময় দিন।
কারণ, অহংকার মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখান থেকে বাস্তবতা একদিন তাকে মাটিতে নামিয়ে আনে। যে মানুষ নিজের সীমা ভুলে যায়, অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় ভাবতে শুরু করে, সে একসময় নিজের ভুলের কারণেই বিপদে পড়তে পারে।
তবে কারও পতনের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। কারও ক্ষতি কামনা করবেন না। বরং নিজের জীবনকে সুন্দর করার দিকে মনোযোগ দিন। কারণ, অন্যের ধ্বংস কামনা করে নিজের শান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।
মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। তিনি আপনার মনের কষ্ট জানেন, আপনার চোখের পানির মূল্য জানেন এবং আপনার নীরবতার কারণও জানেন। আপনি মানুষের কাছে নিজের কষ্টের ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও মহান রবের কাছে কিছুই গোপন নয়।
তাই অন্যায়ের শিকার হলে ধৈর্য ধরুন, দোয়া করুন এবং প্রয়োজন হলে ন্যায়বিচারের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, ধৈর্য মানে অন্যায় মেনে নেওয়া নয়। ক্ষমা করা মানে বারবার অন্যায়ের সুযোগ করে দেওয়া নয়। আর নীরব থাকা মানে দুর্বল হয়ে যাওয়া নয়।
জীবনে নিজের আত্মসম্মান, মানসিক শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন।
সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই—জীবনটা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নয়, জীবনটা সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য।
যারা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের জন্য নিজের হাসি হারিয়ে ফেলবেন না। যারা আপনাকে ছোট করেছে, তাদের কথায় নিজের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবেন না। আর যারা আপনার সরলতার সুযোগ নিয়েছে, তাদের জন্য নিজের ভালো মানুষ হওয়ার গুণটুকুও হারাবেন না।
সবকিছু মহান রবের ওপর ছেড়ে দিন। সময়ের সঙ্গে অনেক সত্য প্রকাশ পায়, অনেক মুখোশ খুলে যায়, আর মানুষ নিজের কাজের ফলাফলও দেখতে পায়।
আপনি শুধু সৎ পথে চলুন, নিজের দায়িত্ব পালন করুন এবং মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখুন।
কারণ, প্রতিশোধের চেয়ে আত্মার শান্তি অনেক বড়, অহংকারের চেয়ে বিনয় অনেক সুন্দর, আর মানুষের ওপর নির্ভরতার চেয়ে মহান রবের ওপর ভরসা রাখা অনেক বেশি প্রশান্তির।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অবস্থান নেওয়ার এবং সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন।








