
কবিতা
যেদিন কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করবে—
“বল তো, তোমাকে সবচেয়ে বেশি কে ভালোবেসেছিল?”
কার কথা বলবে তখন?
বলবে কি—
সেই মানুষটির কথা,
যে তোমার চোখের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টিরও
শব্দ শুনতে পেত,
তোমার নীরবতার ভেতর থেকে
কুড়িয়ে আনত অভিমানের অক্ষর?
নিদ্রাহীন কোনো গভীর রাতে
যখন চাঁদটাও ক্লান্ত হয়ে
জানালার কার্নিশে মাথা রাখবে,
আর তোমার বালিশে ঘুম আসবে না—
তখন কার স্মৃতি
অন্ধকারের মতো তোমাকে ঘিরে ধরবে?
কার নাম
নিঃশব্দে উচ্চারণ করবে তুমি,
যে নামটি একদিন
তোমার হৃদয়ের দরজায়
কোনো কড়া না নেড়েই
ঘর করে নিয়েছিল?
যখন একা হাঁটবে
বিকেলের শেষ আলো মাড়িয়ে,
পথের ধুলোয় হঠাৎ
দুটো পাশাপাশি ছায়া পড়ে যাবে—
তখন কি খুঁজবে
আমার হারিয়ে যাওয়া ছায়াটাকে?
কোনো পুরোনো গন্ধে,
কোনো অচেনা গানের সুরে,
কিংবা হঠাৎ ঝরে পড়া শিউলির মতো
কোনো স্মৃতির ভোরে—
আমি কি ফিরে আসব তোমার কাছে?
আর যদি কোনোদিন
আমাদের দেখা না-হওয়ার শহরে
তুমি খুব সুখী হয়ে যাও,
তবুও একবার ভেবে দেখো—
তোমার সুখের ভিড়ে
কোথাও কি পড়ে আছে
একজন মানুষের নিঃশেষ ভালোবাসা?
তারপর যদি আবার কেউ জিজ্ঞেস করে—
“তোমাকে সবচেয়ে বেশি কে ভালোবেসেছিল?”
তখন উত্তর দিও না…
শুধু একবার
চোখ বন্ধ করে দেখো—
যে মানুষটি তোমাকে হারিয়েও
তোমার সুখের জন্য প্রার্থনা করেছিল,
সে-ই তো ছিল—
তোমার জীবনের সবচেয়ে নীরব
অথচ সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর