1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও মিল-কারখানার সংকট: এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে অপেক্ষা করছে অর্থনৈতিক বিপর্যয় – আল আমিন মিলু তুমি বড় হবে হও- আল আমিন মিলু রাষ্ট্র পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে সরকার: জনগণের আস্থার সংকট সাধুর নগর- আল আমিন মিলু ২১ আগষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক ভয়ংকর রক্তাক্ত অধ্যায় ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এর ২৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ Het belangrijkste aan Casino-apps সরিষাবাড়িতে আবারও মাদকের ভয়াবহতা: রাতের আঁধারে নতুন কৌশলে ব্যবসার অভিযোগ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ঢাকা পিৎজা হাউস অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’র শুভ উদ্বোধন মিলছে ১৫% ছাড়! রাজশাহী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও মিল-কারখানার সংকট: এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে অপেক্ষা করছে অর্থনৈতিক বিপর্যয় – আল আমিন মিলু

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশের অর্থনীতির যে চাকা ঘুরিয়ে রেখেছে শ্রমিকের ঘাম, উদ্যোক্তার ঝুঁকি আর শিল্পের উৎপাদন—সেই চাকার গতি আজ ক্রমেই মন্থর হয়ে আসছে। একের পর এক গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও বিভিন্ন মিল-কারখানা উৎপাদন কমাচ্ছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা টিকে থাকার জন্য কর্মী ছাঁটাই করছে। বিষয়টি কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শ্রমিকের জীবিকা, ব্যাংকিং খাতের ঋণ, রপ্তানি আয়, সরকারের রাজস্ব এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে শুধু মালিকের লোকসান থাকে না। সেখানে একটি শ্রমিক পরিবার তার মাসিক আয়ের নিশ্চয়তা হারায়; ব্যাংক একটি ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়ে; সরবরাহকারী তার পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে; পরিবহন, খাবার, আবাসনসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্রেতা হারায়। অর্থাৎ একটি কারখানার দরজা বন্ধ হওয়া মানে অর্থনীতির আরও বহু দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
সংকটের শিকড় কোথায়?
বর্তমান শিল্প সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চয়তা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ব্যাংকঋণের সংকট, ডলার ও আমদানি-সংক্রান্ত জটিলতা, কর ও শুল্কের চাপ, অর্ডার কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে উদ্যোক্তাদের ওপর তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক চাপ।
বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা শিল্পের জন্য ভয়াবহ। একটি কারখানা পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন করতে না পারলে তার উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয় এবং বিদেশি ক্রেতার আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ব্যাংকঋণের সুদের হার ও অর্থায়নের সংকট অনেক উদ্যোক্তাকে নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, চলতি মূলধন জোগাড় করতেও হিমশিম খাওয়াচ্ছে। ব্যবসা সচল রাখতে যে অর্থ প্রয়োজন, সেটিই যদি উচ্চ ব্যয়ে সংগ্রহ করতে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যায়।
গার্মেন্টস শুধু একটি শিল্প নয়
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কেবল ‘গার্মেন্টস ব্যবসা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
একটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হলে শুধু শ্রমিকের চাকরি যায় না—তার সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা, বাসাভাড়া, খাবার এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—আজ যদি শিল্প বন্ধ হয়, আগামীকাল সেই শিল্পের জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না। একজন উদ্যোক্তা বহু বছর ধরে যে কারখানা, দক্ষ শ্রমিক, ক্রেতা-সম্পর্ক ও উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলেন, সেটি একবার ভেঙে গেলে আবার দাঁড় করাতে সময় ও বিপুল অর্থ প্রয়োজন।
টেক্সটাইল ও মিলে সংকট আরও গভীর
গার্মেন্টসের সঙ্গে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্প দুর্বল হলে পোশাকশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ে এবং উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পায়।
একদিকে মিলগুলো উৎপাদন খরচ সামলাতে পারছে না, অন্যদিকে বাজারে বিক্রির নিশ্চয়তা কমছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শিল্পের একটি অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তার প্রভাব পড়বে। কারণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ যদি উৎপাদন বন্ধের কারণে অনাদায়ী হয়ে যায়, তার অভিঘাত শুধু উদ্যোক্তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সরকারকে এখনই ‘ফায়ার ফাইটিং’ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যেতে হবে
শিল্প রক্ষায় সাময়িক প্রণোদনা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন একটি সমন্বিত শিল্পনীতি।
প্রথমত, নিরবচ্ছিন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প উদ্যোক্তা যেন আগেই জানতে পারেন—কখন কতটুকু জ্বালানি পাওয়া যাবে। অনিশ্চয়তা ব্যবসার সবচেয়ে বড় শত্রু।
দ্বিতীয়ত, শিল্পঋণের সুদ ও পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান মৌলিকভাবে সক্ষম কিন্তু সাময়িক সংকটে পড়েছে, তাদের জন্য পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি আর সাময়িক সংকটে পড়া উদ্যোক্তাকে একই চোখে দেখা যাবে না।
তৃতীয়ত, কর ও শুল্ক ব্যবস্থাকে শিল্পবান্ধব ও স্বচ্ছ করতে হবে। একই পণ্যে দেশীয় উৎপাদনকারী যদি আমদানিকারকের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে, তাহলে স্থানীয় শিল্প কখনো টেকসই হবে না।
চতুর্থত, রপ্তানি বাজার বহুমুখী করতে হবে। শুধু কয়েকটি প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভর না করে নতুন দেশ ও নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশল নিতে হবে। একই সঙ্গে পোশাকের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
পঞ্চমত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ সুরক্ষা দিতে হবে। বড় শিল্প কোনোভাবে সংকট সামাল দিতে পারলেও ছোট উদ্যোক্তার হাতে সাধারণত দীর্ঘ সময় লোকসান বহনের সক্ষমতা থাকে না। অথচ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা বিশাল।
শ্রমিককে বোঝা নয়, অর্থনীতির অংশ হিসেবে দেখতে হবে
শিল্প সংকটে শ্রমিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই কারখানা বন্ধের আগে শ্রমিক, মালিক, ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত সমাধানের চেষ্টা প্রয়োজন।
কারখানা টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা থাকলে শ্রমিক ছাঁটাইকে প্রথম সমাধান হিসেবে না দেখে উৎপাদন পুনর্গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন ও সাময়িক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ দক্ষ শ্রমিক হারানো মানে শিল্পের মানবসম্পদ হারানো।
শিল্প বন্ধ হওয়ার খবরকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না
একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার খবর হয়তো একটি দিনের সংবাদ। কিন্তু একই ধরনের ঘটনা যদি একের পর এক ঘটতে থাকে, তখন সেটি আর বিচ্ছিন্ন সংবাদ থাকে না—তা জাতীয় অর্থনীতির সতর্কসংকেত হয়ে দাঁড়ায়।
আজ যে উদ্যোক্তা লোকসানে কারখানা চালাচ্ছেন, আগামীকাল তিনি হয়তো বিনিয়োগ বন্ধ করবেন। পরশু নতুন শিল্প স্থাপনের আগ্রহ হারাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীও ভাববে—

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট