
কবিতা
বাংলার রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন কত কবি,
সবুজ শ্যামল বাংলাকে নিয়ে গেয়েছেন কত ছবি।
নদীর বুকে ঢেউয়ের নাচন, মাঠে সোনার ধান,
এই বাংলার রূপে মিশে আছে বাঙালির প্রাণ।
আজও আছে নদীর স্রোতে জোছনা ঝরা রাত,
আজও সবুজ ফসল হাসে, পাখির মধুর মাত।
আজও আছে শিউলি ফোটা ভোরের শিশিরকণা,
তবু কেন হৃদয়জুড়ে বিষাদে মন আনা?
রূপ তো আছে, সৌন্দর্য আছে, আছে মাটির টান,
তবু কোথায় হারিয়ে গেল মানবতার গান?
কবির কলম থমকে থাকে, শিল্পীর কণ্ঠ নীরব,
স্বার্থের কাছে হার মেনেছে বিবেকেরই গৌরব।
মানবতার গান গেয়েছেন কত শিল্পী, কতজন,
সত্য-ন্যায়ের পথ দেখিয়ে জাগিয়েছেন মন।
আজকে যদি বেঁচে থাকতেন, দেখতেন দেশের হাল,
দুঃখে হয়তো থেমে যেত তাঁদের সুরের তাল।
ভালো মানুষ দেশ ছেড়ে আজ খোঁজে অন্য ঠাঁই,
সত্য কথা বলার সাহস অনেকেরই নাই।
ন্যায়ের পথে চলতে গেলে জোটে কত অপমান,
মিথ্যার কাছে মাথা নোয়ায় সত্যের সম্মান।
কোথায় গেল সেই স্বদেশের ভালোবাসার বাণী?
কোথায় গেল মানুষের প্রতি মমতা, প্রেমখানি?
দেশটা সবার, মাটিও সবার, সবার সমান অধিকার,
তবু কেন বিভেদ গড়ে ভাঙে আপন ঘরদুয়ার?
হায় রে আমার রূপসী বাংলা, কী হলো তোর আজ?
কেন বিবেক বন্দী হলো স্বার্থপরের মাঝে?
তোর আকাশে সূর্য হাসে, নদী গায় গান,
তবু কেন মানুষের বুকে কাঁদে মানুষের প্রাণ?
তবু আমি স্বপ্ন দেখি, ফিরবে সুদিন আবার,
সত্য-ন্যায়ের আলোয় ভাঙবে আঁধার-দেয়াল।
ভালো মানুষ ফিরবে দেশে, জাগবে নতুন আশা,
মানবতার ফুল ফুটিয়ে মুছবে মনের হতাশা।
আমার সোনার বাংলা, তোর রূপ চির অমলিন,
তোরই বুকে শান্তি ফিরুক—এই প্রার্থনা প্রতিদিন।
প্রকৃতির রূপ থাকবে চিরকাল, থাকবে গানের সুর,
মানুষ যদি মানুষ হয়, আঁধার হবে দূর।
হায় রে আমার সোনার বাংলা, তোর কাছে এই মিনতি—
মানুষ যেন মানুষ থাকে, জাগুক বিবেকের জ্যোতি।
— লেখক কলামিস্ট মানবাধিকার কর্মী রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর