1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজনৈতিক গ্যারাকলে মানুষ আজ দিশেহারা। চারদিকে যেন শুধু ‘নাই আর নাই’। মিথ্যা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির চিড়ায় কি সত্যিই ভিজবে মানুষের পেট? তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—এভাবে চলতে থাকলে এদেশের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? উপকূলবাসীর নিরাপদ পানির দাবিতে মোরেলগঞ্জে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা মোরেলগঞ্জে দারুস সুন্নাহ মডেল মাদরাসার  দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার পুরুস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ধানক্ষেতে কৃষি কাজ করতে গিয়ে দুই ভাই বিধান ও মানিকের মৃত্যু হলো  বজ্রপাতে  বেলজিয়ামে আওয়ামী লীগের শোকসভা: ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ড. হাসান মাহমুদের Mostbet giris: Yuksek Kazanc Firsatlari Sizi Bekliyor! ভিউয়ের যুগে সংবাদ যখন কনটেন্ট, তখন সবচেয়ে বড় সংকট ক্যামেরার নয়—সাংবাদিকতার বিবেকের বিরহের শেষ প্রহর – আল আমিন মিলু পোগলদিঘা ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, মাঝে মধ্যে ধরা পড়ছে খুচরা বিক্রেতা। তবুও থেমে নেই প্রকাশ্যেই চলছে বিক্রির, অভিযোগ এলাকাবাসীর Jackpot fırsatlarını yakala Bethub casino

সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেলের দাবি কতটা যুক্তিসংগত?

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 
বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রশ্ন হচ্ছে—বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে তাদের এই দাবি কতটা যুক্তিসংগত? নাকি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এমন দাবি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে?

প্রথমেই বাস্তবতার দিকে তাকানো যাক। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পরিবহন—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে। ফলে ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালের জীবনযাত্রা চালানো স্বাভাবিকভাবেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের দাবি একেবারে অযৌক্তিক বলা যায় না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন কর্মচারীর বেতন শুধু তার ব্যক্তিগত খরচ নয়; এর ওপর নির্ভর করে তার পরিবারের খাদ্য, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা প্রয়োজন।

নবম পে-কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার একটি চেষ্টা এখানে দেখা যাচ্ছে।

তবে এখানেই রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকার কি এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা রাখে?

কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো মানে শুধু মাসিক বেতন বাড়ানো নয়। এর সঙ্গে বাড়বে বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও সরকারের সামগ্রিক ব্যয়। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তাই জনগণের করের টাকা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকারি চাকরিজীবীরা এই দেশেরই মানুষ। তারা বাজার থেকে পণ্য কেনেন, বাসাভাড়া দেন, সন্তানদের পড়ান, চিকিৎসা নেন। তাদের আয় বাড়লে বাজারে ভোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের ঘাটতি বেড়ে যায়, অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয় কিংবা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে।

তাই সমাধান হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ।

শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ালেই হবে না; বেসরকারি খাতের কর্মচারী, নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর—তাদের জীবনযাত্রার কথাও সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুবিধা যদি শুধু একটি শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—নতুন পে-স্কেল যেন শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় না হয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গেও যুক্ত হয়। সরকারি কর্মচারীরা যদি ন্যায্য বেতন পান, তাহলে তাদের কাছ থেকেও সততা, দায়িত্বশীলতা, সময়মতো সেবা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক।

সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতনসহ বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না হলে আন্দোলনের কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে।

তবে আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া উচিত। একইভাবে সরকারেরও উচিত বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে স্বচ্ছভাবে জানানো—কী পরিমাণ বেতন দেওয়া সম্ভব, কখন থেকে দেওয়া হবে এবং এর অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে।

সবশেষে বলতে চাই, সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আবার দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করাও সরকারের দায়িত্ব। তাই দাবি যদি বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা উচিত। তবে বাস্তবায়ন হতে হবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার কর্মচারীরা ন্যায্য অধিকার পান এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন।

সুতরাং প্রশ্নটি শুধু—“পে-স্কেল হবে কি হবে না?” নয়। আসল প্রশ্ন হলো—কীভাবে এমন একটি বেতন কাঠামো তৈরি করা যায়, যা সরকারি কর্মচারীদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করবে, প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে অতিরিক্ত চাপে ফেলবে না।

এই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই হতে পারে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার আগে দেশ নিয়ে চিন্তা  করতে হবে। দেশ সঠিক পথে থাকলে একদিন আগে পরে  সবই সম্ভব। আসুন দেশের ক্লান্তি দুর করে ঐক্য বদ্ধ ভাবে এগিয়ে যাই। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট