1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকবে তো?—টাকা না ক্ষমতা, কার কাছে জিম্মি আইন? টাকার ওপারে অন্ধকার নরসিংদীর শিবপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মনজুর এলাহী এমপি ফুলপুরে ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২,১০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তাহলে জনগণ কি সুখ-শান্তি পাবে? সাঁথিয়ায় মব সৃষ্টি করে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সুখ কামনা- আল আমিন মিলু বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণ: ডিসেম্বর ঘিরে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫: বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়

আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকবে তো?—টাকা না ক্ষমতা, কার কাছে জিম্মি আইন?

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

নিজের মুখে যদি কেউ স্বীকার করে যে সে একজন পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে—তারপরও যদি সেই অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে—আইন কি সবার জন্য সমান? নাকি আইনও কখনো টাকা, ক্ষমতা ও প্রভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে?

একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অস্ত্র নয়, তার অর্থনীতি নয়, বরং মানুষের আইনের প্রতি আস্থা। একজন সাধারণ মানুষ যখন অন্যায়ের শিকার হন, তখন তিনি আদালতের দিকে তাকান। তিনি বিশ্বাস করেন—ক্ষমতাবান কেউ হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কিন্তু সেই বিশ্বাস যখন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন শুধু একজন মানুষের নয়, পুরো সমাজের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বা স্বীকারোক্তি থাকলেই তাকে আদালতের বাইরে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়াই ন্যায়বিচারের মূলনীতি। একই নিয়ম নির্দোষ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে শাস্তি পাওয়া থেকেও রক্ষা করে।

বাংলাদেশে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাটর্নি জেনারেলও বলেছেন, মিথ্যা মামলা কমানো জরুরি এবং মামলার জটের অন্যতম কারণ হলো মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত সমস্যা।

ভাবুন, একজন নিরপরাধ মানুষকে একটি মামলায় আসামি করা হলো। তিনি গ্রেপ্তার হলেন, জামিন পেলেন না, বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিলেন। পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ল। সন্তান হয়তো বাবাকে ছাড়া বড় হলো। স্ত্রী হয়তো সংসারের দায়িত্ব একা কাঁধে নিলেন। অথচ শেষ পর্যন্ত যদি আদালত বলেন—অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই, তাহলে সেই হারানো বছরগুলো কে ফিরিয়ে দেবে?

আর এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—মামলা করার ক্ষমতা কার হাতে, তদন্তের ক্ষমতা কার হাতে এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ কার হাতে?

আইন যদি দুর্বল মানুষের জন্য এক রকম আর ক্ষমতাবান মানুষের জন্য আরেক রকম হয়ে যায়, তাহলে সেটি আইনের শাসন নয়; সেটি আইনের অপব্যবহার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিথ্যা মামলা, অতিরিক্ত আসামি করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাজনৈতিক সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং অনেক মামলায় তদন্ত ও চার্জশিটের অগ্রগতি ছিল খুবই সীমিত।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতেই পারে—একজন অপরাধী যদি অর্থ বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আইনের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, আর একজন নিরপরাধ দরিদ্র মানুষ যদি বছরের পর বছর কারাগারে পড়ে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় কোথায় যাবে?

অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ভয়াবহ অপরাধের বিচার করা। একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, হত্যাকাণ্ড বা যেকোনো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিচারকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।

একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোও ভয়াবহ অন্যায়। কারণ কারাগারে থাকা মানে শুধু একজন মানুষের স্বাধীনতা হারানো নয়—একটি পরিবারের স্বপ্ন, অর্থনীতি এবং সামাজিক মর্যাদাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

আইন সংস্কারের ক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনগুলোতে গ্রেপ্তারের সময় পরিচয় প্রকাশ, গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথি, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার ও তদন্তে জবাবদিহির মতো সুরক্ষা জোরদার করার বিধান আনা হয়েছে।

এগুলো কাগজে থাকলেই হবে না—বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ সাধারণ মানুষ জানতে চায়—আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান?

টাকা থাকলে কি মামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়? ক্ষমতা থাকলে কি তদন্তের গতিপথ বদলে দেওয়া যায়? প্রভাবশালী হলে কি অপরাধের বিচার বিলম্বিত হয়? আর দরিদ্র হলে কি আইনের ভার তার ওপর আরও বেশি পড়ে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইনের সমান প্রয়োগ। মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ বিচার শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার নাম নয়; বিচার মানে নিরপরাধ মানুষকে রক্ষা করাও।

একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন একজন সাধারণ মানুষ একজন ক্ষমতাবান মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও বিশ্বাস করেন—তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। আর একজন ক্ষমতাবান মানুষও জানেন—অপরাধ করলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

শেষ কথা হলো—আইন যদি টাকা ও ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানুষের বিশ্বাসে।

মানুষ যখন আদালতের বদলে প্রভাবশালী ব্যক্তির দরজায় সমাধান খুঁজতে শুরু করে, তখন আইনের শাসন দুর্বল হয়। তাই এখন প্রয়োজন প্রতিশোধ নয়, পক্ষপাত নয়, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক বিচার।

অপরাধী হলে শাস্তি হোক, নিরপরাধ হলে মুক্তি হোক—কিন্তু সিদ্ধান্ত হোক আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে।

কারণ আইনের চোখে সবাই সমান—এই বিশ্বাসটুকুই একটি সভ্য রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ।আসুন আইনের প্রতি বিশ্বাস রাখি  নিজের স্বার্থে  যেন  কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়িত না করি এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট