1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির হাতে কষ্টি পাথরের দেবী মুর্তি আটক ১২গ্রাম হেরোইন সহ কুখ্যাত মাদক কারবারি ফিরোজ গ্রেপ্তার Link Factory verification Gates of Olympus ile her çevirme büyük bir macera নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন এর দিকনির্দেশনায় ময়লার ভাগাড়ে ফুল,ফল ও ঔষধি বাগান ফুলপুরে এনআই অ্যাক্টের মামলায় আনসার-ভিডিপির দলনেত্রী জাহানারা গ্রেপ্তার পুলিশ প্রশাসন যদি মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসোহারা নেয়, তাহলে মাদক নির্মূল কি আদৌ সম্ভব? রাজশাহীর নতুন পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ, নাঈমুল হাছানের বিদায় জামালপুরে ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ জড়িত ৫ জনের কারাদণ্ড গোমস্তাপুর সীমান্তে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার

অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ—এ সংকটের শেষ কোথায়?

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ, এক সময়ের সম্ভাবনার দেশ, উন্নয়নের গল্পে ভরা একটি নাম। কিন্তু আজ সেই দেশই দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। প্রশ্ন একটাই—এই সংকটের শেষ কোথায়?

আজ বাজারে গেলে সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা শোনা যায়—“দাম বাড়ছে, আয় বাড়ছে না।” নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেন প্রতিদিনই নতুন করে বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজির বাজার—সবকিছুই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, আর নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে আরও কঠিন।

এই সংকটের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ডলারের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে চাপ। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া দেশের জন্য বড় এক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি আয় বাড়লেও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছে না।

শুধু তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোও এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, এবং পরিকল্পনার অভাব—এই তিনটি বিষয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকল্প নেওয়া হয় কিন্তু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে অর্থের অপচয় হয়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয় না

“আগে যে জিনিস ৫০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন সেটা ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আমরা তো বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করি। কিন্তু ক্রেতারা কষ্ট পাচ্ছে।”

এই কথাগুলোই আজকের বাস্তবতা। ব্যবসায়ীরা যেমন চাপে আছেন, তেমনি ভোক্তারাও বিপদে।

অন্যদিকে, বেকারত্বও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষিত তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না, আবার যারা কাজ করছে তাদের আয় জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে হতাশা বাড়ছে, সমাজে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

তবে কি এই সংকটের কোনো শেষ নেই?

অবশ্যই আছে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, সৎ উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। প্রথমত, দুর্নীতি কমাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে—বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প খাতে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

তৃতীয়ত, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ঋণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করা। নীতিনির্ধারণের সময় তাদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মানুষ অন্তত স্বস্তিতে বাঁচতে পারে। 

বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী। এই দেশ বহু সংকট মোকাবিলা করে এগিয়ে এসেছে। আজকের এই অর্থনৈতিক সংকটও একদিন কাটিয়ে উঠবে—এই বিশ্বাস এখনও মানুষের মধ্যে আছে। তবে সেই দিনের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সঠিক নেতৃত্ব এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

শেষ প্রশ্নটা আবারও ফিরে আসে—অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ, এ সংকটের শেষ কোথায়?

উত্তরটা লুকিয়ে আছে আমাদের কাজের মধ্যেই। আমরা যদি সচেতন হই, দায়িত্বশীল হই, এবং দেশকে ভালোবাসি—তাহলেই এই সংকটের শেষ দেখা সম্ভব।

“সংকট আসে, আবার কেটে যায়—কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা কতটা প্রস্তুত, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট