
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আমন ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। প্রতিবছর আমন মৌসুমকে ঘিরে কৃষকের মধ্যে থাকে নতুন আশার সঞ্চার। কিন্তু এবার প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় অনেক কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও উদ্বেগ। জমিতে ধানের চারা রোপণের পর সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, আমন আবাদে বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োজন হলেও অনেক এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। ফলে একদিকে যেমন কৃষকের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জমিতে সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের শুরু থেকেই জমির পরিচর্যায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা না গেলে ধানের গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ফলন কমে গেলে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। আর উৎপাদন কমে গেলে শুধু কৃষক নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বাজার ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও।
বর্তমানে কৃষকের অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো—চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কেন কম। কৃষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, কোথাও যদি বরাদ্দের সার যথাযথভাবে কৃষকের কাছে না পৌঁছে অন্যত্র চলে যায়, তাহলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে সার পাচার, অবৈধ মজুত কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো কোনো ঘটনা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের দাবি, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত চ্যানেলের বাইরে চলে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি করতে হবে। ডিলার পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। কোথায় কত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, কতটুকু বিক্রি হচ্ছে এবং প্রকৃত কৃষকরা কতটুকু পাচ্ছেন—এসব তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা হলে অনিয়ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
কৃষকদের আরও দাবি, সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত কৃষক যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সার পান, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, মজুত করে রাখা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কারণ, কৃষকের হাতে সময় খুবই সীমিত। আমন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমিতে সার প্রয়োগ করা না গেলে পরে অতিরিক্ত সার দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত সার থাকার হিসাব নয়, বাস্তবে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছেছে কি না—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সচেতন মহল মনে করছেন, সার নিয়ে কৃষকের এই উদ্বেগ দ্রুত নিরসন করা না গেলে আমন আবাদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে, ফলন কমতে পারে এবং অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তাই কৃষকের স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। সার পাচার ও অবৈধ মজুত প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তাই আমন মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের হতাশা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সচেতন মানুষের।আসুন সার কালোবাজারি ও অবৈধ মজুমদারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি।