1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

১৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে চুয়াডাঙ্গা কেরু এ্যান্ড কোং

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

 

মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা থেকে,

অধিকাংশ চিনিকল যখন বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা টানছে,ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে চুয়াডাঙ্গার কেরু এন্ড কোম্পানি। তবে সমন্বিত সব সেক্টর মিলে এটাকে দর্শনার কেরুজ কমপ্লেক্স বলা হয়। সরকারি রাজস্ব খাতে বিপুল অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি চিনি কারখানার লোকসান পুষিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা মুনাফা, যা কেরুজ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর সর্বকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় চিনি কারখানার লোকসানও কিছুটা কমেছে।

চলতি বছরে কেরুজ কমপ্লেক্স সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে। এর পাশাপাশি চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
কেরুজ কমপ্লেক্সের ৬ টি বিভাগের মধ্যে ৫ টি এবার মুনাফা অর্জন করেছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। চলতি অর্থবছরে এ বিভাগে ফরেন লিকার উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৮৬২ কেস এবং বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কেস।

একই সময়ে বোতলজাত বাংলা মদ উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ কেস এবং বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮ কেস। সব মিলিয়ে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া নয়টি খামারে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা,আকন্দ বাড়িয়া পরীক্ষা মূলক খামারে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা, আকন্দ বাড়িয়া বায়োফার্টিলাইজার বা জৈব সার কারখানায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুজ কমপ্লেক্সের মোট মুনাফা হয়েছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। সে বছর চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা। একই অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগে মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৪ টাকা। নয়টি বাণিজ্যিক খামারে ৩৮ লাখ ৯ হাজার ৭১২ টাকা, আকন্দ বাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ টাকা, বায়োফার্টিলাইজারে ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালে ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬ টাকা মুনাফা হয়েছিল।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেরুজ কমপ্লেক্সের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪০ টাকা। প্রবীণ শ্রমিক- কর্মচারীদের মতে, এটি কেরুজ কমপ্লেক্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। কেরুজ কমপ্লেক্সের বয়স এরই মধ্যে ৮৮ বছর পেরিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি নিয়ে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই প্রতিবছর আখ মাড়াই কার্যক্রম চালাতে হয়। মাড়াই মৌসুমে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তিতেও পড়তে হয়। তবে এবছর এর বিপরীতে ডিস্টিলারি বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে ফরেন লিকার উৎপাদনে অটোমেশন স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় মদ বোতলজাত করণেও আধুনিক মেশিন স্থাপন করা হলে এ বিভাগ আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কেরুজ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগে সম্প্রতি প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএমআরইসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে চিনিকল আধুনিকায়নের কাজও রয়েছে। আধুনিকায়নের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে চিনি কারখানার লোকসান আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাড়াই মৌসুমে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। এর মধ্যে কৃষকের জমি ছিল ৩ হাজার ৯৩৫ একর এবং কেরুজের নিজস্ব জমি ১ হাজার ৬২৫ একর। লক্ষ্য ছিল ৬৯ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই এবং ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন। দৈনিক গড় মাড়াই হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন এবং চিনি আহরণের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এসময় আখ মাড়াই হয়েছে ৬৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কম। চিনি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা প্রায় ৮৫০ মেট্রিক টন কম। তবে চিনি আহরণের হার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না।

মৌসুমে এ হার ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। দৈনিক গড় আখ মাড়াই হয়েছে ১ হাজার ৪২ মেট্রিক টন, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। চিনি কারখানার লোকসান কমিয়ে কেরুজকে আরও লাভজনক করতে আখ চাষ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কেরুজ কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে।

কেরুজ কৃষি খামারের ইনচার্জ ইমদাদুল হক বলেন,
আখের জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা,উন্নত ও রোগমুক্ত আখ উৎপাদনে শুধু চারা রোপণ করলেই হয় না। সঠিক সময়ে আগাছা দমন,সার প্রয়োগ,মাটি আলগা করা,সেচ এবং রোগ- পোকা পর্যবেক্ষণসহ নিয়মিত পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আখ পরিচর্যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো গাছের শিকড়ের বৃদ্ধি নিশ্চিত করা, জমিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা এবং গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা। বিশেষ করে আগাছা সময় মতো পরিষ্কার না করলে তা আখের সঙ্গে পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। তিনি বলেন, আখের ফলন ভালো হবে তো কেরু কোম্পানি লাফিয়ে লাফিয়ে লাভবান হবে।

সার্বিক বিষয় কেরুজ কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন,অত্র অঞ্চলে অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কেরুজ কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগেই সবার অবদান রয়েছে। সরকারের এই মূল্যবান সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে অন্যতম কাঁচামাল আখের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। তিনি আরও বলেন,প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ ম‌হোদ‌য়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। একই সঙ্গে আখ চাষ বৃদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট