
কবিতা
তুমি তো ভালোবাসতেই জানতে না—
আমি তোমার নীরব ঠোঁটে
ভালোবাসার প্রথম বর্ণমালা এঁকেছিলাম।
তুমি ছিলে—
শীতের কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া
এক অবুঝ পথিক,
জানতে না—
কোন পথ হৃদয়ে যায়,
কোন পথে গেলে
মানুষের চোখের জল
বৃষ্টির মতো নেমে আসে।
আমি তোমাকে শিখিয়েছিলাম—
অভিমানের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা মায়া পড়তে,
নীরবতার বুক চিরে
অপ্রকাশিত কথাগুলো শুনতে,
দূরে থেকেও
কী করে একজন মানুষের
হৃদয়ের খুব কাছে থাকা যায়।
তুমি তখন
আবেগহীন এক পাথরের নদী—
আমি আমার সমস্ত ভালোবাসা ঢেলে
তোমার বুকে জোয়ার এনেছিলাম।
শিখিয়েছিলাম—
ভালোবাসা মানে শুধু কাছে থাকা নয়,
ভালোবাসা মানে—
কারো অনুপস্থিতিতেও
তার জন্য দরজা খোলা রাখা;
ভালোবাসা মানে—
নিজে কাঁদতে কাঁদতেও
প্রিয় মানুষটির চোখের জল
আঙুলের ডগায় মুছে দেওয়া।
আজ তুমি ভালোবাসতে শিখে গেছো—
বড্ড ভালোবাসতে শিখে গেছো!
শুধু—
আমাকে নয়।
আজ তুমি
অন্য কারো আকাশের পূর্ণিমা,
অন্য কারো ভোরের প্রথম আলো,
অন্য কারো জানালায়
বৃষ্টিভেজা বিকেলের নরম রোদ।
যে হাত একদিন
আমার হাতের উষ্ণতা চিনেছিল,
আজ সেই হাত
অন্য কারো আঙুলে জড়িয়ে
নতুন স্বপ্নের ঘর বাঁধে।
যে চোখে আমি
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালিয়েছিলাম,
আজ সেই চোখ
অন্য কারো জন্য
শরতের আকাশ হয়ে হাসে।
আর আমি?
আমি পড়ে আছি—
তোমার ফেলে যাওয়া
একটি পুরোনো চিঠির মতো,
যার অক্ষরগুলো মুছে গেছে,
কিন্তু গন্ধটা এখনো
বুকের ভেতর বেঁচে আছে।
কখনো কখনো রাত গভীর হলে
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবি—
তুমি কি মনে রেখেছো
তোমার ভালোবাসার প্রথম পাঠটি
কে তোমাকে পড়িয়েছিল?
মনে আছে কি—
কেউ একজন তোমার অন্ধকারে
জোনাকির মতো জ্বলেছিল,
তোমার শূন্য হাতে
স্বপ্নের ফুল তুলে দিয়েছিল,
তোমার অনভ্যস্ত হৃদয়টাকে
ভালোবাসার ভাষা শিখিয়েছিল?
আজ তুমি
অন্য কারো আকাশের আলো হয়ে জ্বলো—
জ্বলো, খুব উজ্জ্বল হয়ে জ্বলো।
শুধু আমার রাতটুকু
আর আলোকিত কোরো না।
কারণ—
তোমার আলোয় একদিন
যে হৃদয় স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল,
আজ সেই হৃদয়ই
তোমার আলো থেকে দূরে সরে গিয়ে
অন্ধকারকে আপন করে নিয়েছে।
তবু শেষবার শুধু বলি—
তুমি ভালোবাসতে জানতে না,
আমি তোমাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলাম;
আজ তুমি ভালোবাসতে শিখে গেছো—
শুধু আফসোস,
তোমার শেখা ভালোবাসার
কোনো অধ্যায়েই
আমি আর নেই।
— লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর