1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র শুক্রবারের কেন এতো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিস্তারিত বর্ননা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র শুক্রবার বা জুমার দিনের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং মহিমান্বিত। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো।” (সূরা জুমা: ৯)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায় যে, জুমার দিনের গুরুত্ব কতটা বেশি। দুনিয়ার সব কাজকর্ম বন্ধ রেখে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া এই দিনের একটি বিশেষ নির্দেশনা।
হাদিস শরীফেও জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “সূর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয়, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন।” (সহিহ মুসলিম)। এই দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এই দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়। এমনকি কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই—এমনটিও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ। এটি পুরুষ মুসলমানদের জন্য ফরজ। এই নামাজ শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। মসজিদে একত্রিত হয়ে মুসল্লিরা খুতবা শোনেন, যা তাদের নৈতিকতা, জীবনব্যবস্থা ও দ্বীনি জ্ঞান বৃদ্ধি করে। ফলে জুমার নামাজ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
এই দিনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো দোয়া কবুল হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু চায়, আল্লাহ তা কবুল করেন। যদিও সেই নির্দিষ্ট সময়টি গোপন রাখা হয়েছে, তবে অধিকাংশ আলেম মনে করেন এটি আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হয়ে থাকে। তাই এই সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুমার দিনে আরও কিছু সুন্নত আমল রয়েছে, যা পালন করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। যেমন—গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিষ্কার কাপড় পরা, আগেভাগে মসজিদে যাওয়া, বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা এবং সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা। এসব আমল মানুষের আত্মাকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে।
পবিত্র শুক্রবার মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনারও একটি দিন। এই দিনে একজন মুমিন তার সারা সপ্তাহের কাজের হিসাব-নিকাশ করতে পারে এবং নিজের ভুলত্রুটি থেকে তওবা করার সুযোগ পায়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার এক অনন্য সুযোগ এই দিনটি।
এছাড়া, জুমার দিন মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মসজিদে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের খোঁজ-খবর নেয়, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে—যা ইসলামের সাম্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষ দুনিয়াবি কাজে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়ে যে, আখিরাতের কথা ভুলে যায়। জুমার দিন সেই ভুলে যাওয়া মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। এটি এক ধরনের সাপ্তাহিক আত্মিক রিচার্জ, যা মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং তাকে সৎপথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
সবশেষে বলা যায়, পবিত্র শুক্রবার শুধু একটি দিন নয়, বরং এটি মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমার দিন। এই দিনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। আমরা যদি এই দিনের গুরুত্ব বুঝে সঠিকভাবে পালন করতে পারি, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
আসুন, আমরা সবাই পবিত্র জুমার দিনের গুরুত্ব উপলব্ধি করি এবং এই দিনটিকে ইবাদত, দোয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে অর্থবহ করে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের সঠিক মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন—আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট