জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শেয়ার করুন:

 

​রকিবুল ইসলাম লিংকন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়েছেন দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগের কথা জানান এবং একইসঙ্গে দলের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক দলটির অভ্যন্তরীণ বহুমুখী মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে সামান্তা শারমিন দল ছাড়ার পেছনের মূল কারণগুলো সবিস্তারে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে রাজনৈতিক লক্ষ্য, আদর্শ এবং সংস্কারের রূপরেখা সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমান কার্যপদ্ধতি ও কৌশল তার সাথে আর মিলছে না। দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের ধরন এবং কাঠামোগত পরিচালনায় আদর্শিক দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে এই প্ল্যাটফর্মে কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা ও মূল এজেন্ডা থেকে দল কিছুটা বিচ্যুত হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, সামান্তা শারমিনের দলত্যাগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তও বড় প্রভাব রেখেছে। গত অক্টোবর মাসে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন করে সাজানো হয়। সেই সময় তাকে ‘সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক’ পদ থেকে সরিয়ে সাধারণ ‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছিল। পদাবনতির এই ঘটনাটি দলের ভেতরে চাপা অসন্তোষ তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে নীতিগত মতপার্থক্য এবং এই সাংগঠনিক রদবদলের ক্ষোভ থেকেই তিনি দল থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
​

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে সামান্তা শারমিন শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার দলত্যাগ এনসিপির জন্য একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদত্যাগের পর দলটি অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ চলায় এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।