1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
​গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম ও লুটপাট, মডেল থানায় কালুর নামে এজাহার দায়ের ​ ফুলপুরে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার, ওসির হুঁশিয়ারি সরিষাবাড়ি উপজেলার ৫নং পিংনা ইউনিয়ন পিংনা দক্ষিণ পাড়া গড়ে উঠেছে মাদকের ভয়াবহ আস্তানা। প্রশাসন একটু নজর দিবেন কি?? মা’কে দিয়ে সন্তানের বিরুদ্ধে ভরনপোষণ এর মামলা , এ বিষয়ে আইন কি বলে এর শেষ কোথায়?? নরসিংদীর সচিব আলতাফ হোসেন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদে সচেতন মহলের মাদকের চেয়ে ভয়ংকর নেশা হলো অনলাইন জুয়া, দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত রাজশাহীতে কিশোর গ্যাং: নৈতিক অবক্ষয়, মাদকের ছোবল ও সামাজিক উদ্বেগ গোদাগাড়ীতে যাত্রী ছাউনি ও অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে ইউএনও কে স্মারকলিপি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা সাংবাদিক প্রশিক্ষণ,গ্রীস্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত মাদক একটি ভয়ানক ব্যাধী, এটা নির্মুল করা কেন সম্ভব হচ্ছে না, দুর্বলতা কার সরকারের না আইনের

মা’কে দিয়ে সন্তানের বিরুদ্ধে ভরনপোষণ এর মামলা , এ বিষয়ে আইন কি বলে এর শেষ কোথায়??

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

একজন মা—যিনি স্বামীর রেখে যাওয়া পেনশন এবং সম্পদের একক ভোগদখল করছেন, অথচ সেই মায়ের পক্ষ থেকেই নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলা—এই ঘটনা আমাদের সমাজে এক জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিষয়টি শুধু আইনি নয়, নৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকেও গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।
প্রথমেই আসা যাক আইনের দৃষ্টিতে। বাংলাদেশে ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, সন্তানদের দায়িত্ব রয়েছে তাদের অসহায়, দরিদ্র বা উপার্জনক্ষমতাহীন পিতা-মাতার দেখভাল করা। বিশেষ করে মুসলিম পারিবারিক আইনে বলা হয়েছে, যদি মা নিজে উপার্জনে অক্ষম হন এবং তার পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে সন্তানদের ওপর তার ভরণপোষণের দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—যদি সেই মা নিজেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হন, যেমন নিয়মিত বড় অংকের পেনশন পাচ্ছেন এবং ৪ বিঘা জমির ফসল একাই ভোগ করছেন, তাহলে কি তিনি সন্তানের বিরুদ্ধে ভরণপোষণের দাবি করতে পারেন?
আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভরণপোষণ পাওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো প্রয়োজন বা অভাব। অর্থাৎ, আবেদনকারী ব্যক্তি যদি নিজের প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত আয় বা সম্পদ রাখেন, তাহলে সাধারণত তিনি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন না। এই ক্ষেত্রে আদালত সর্বপ্রথম যাচাই করবে—মায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা কী। যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি স্বচ্ছল, নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন এবং সম্পদ থেকে আয় করছেন, তাহলে সন্তানের ওপর অতিরিক্ত ভরণপোষণের বোঝা চাপানোর যৌক্তিকতা কমে যায়।
এখন আসা যাক মামলার সম্ভাব্য পরিণতির দিকে। আদালত সাধারণত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে—প্রথমত, মায়ের আর্থিক অবস্থা; দ্বিতীয়ত, সন্তানের আর্থিক সামর্থ্য; এবং তৃতীয়ত, পারিবারিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধের বাস্তবতা। যদি দেখা যায় মা সত্যিই স্বচ্ছল এবং তার প্রয়োজন মেটানোর মতো আয় রয়েছে, তাহলে আদালত মামলা খারিজ করে দিতে পারে। আবার যদি প্রমাণ হয় যে পেনশন বা সম্পদের আয় থাকা সত্ত্বেও তা যথেষ্ট নয় বা কোনো কারণে তিনি বাস্তবে কষ্টে আছেন, তাহলে আদালত সন্তানের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভরণপোষণ নির্ধারণ করতে পারে।
তবে এই ধরনের মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—পারিবারিক সম্পদের বণ্টন। যদি সেই ৪ বিঘা জমি যৌথ সম্পত্তি হয়ে থাকে এবং সন্তানদেরও তাতে অধিকার থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু ভরণপোষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধও সামনে চলে আসে। সে ক্ষেত্রে সন্তানের পক্ষ থেকে সম্পত্তিতে নিজের অধিকার দাবি করা হতে পারে, যা পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এখানে নৈতিকতার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মা, যিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন—তার বিরুদ্ধে সন্তানের মামলা বা সন্তানের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা—উভয়ই সমাজে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। অনেক সময় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি বা তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাই আইনি লড়াইয়ের আগে পারিবারিক সমঝোতার চেষ্টা করা সবচেয়ে উত্তম পথ।
সবশেষে বলা যায়, এই ধরনের মামলার ফলাফল নির্ভর করে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ এবং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর। যদি মা সত্যিকার অর্থে স্বচ্ছল হন, তাহলে মামলার সাফল্যের সম্ভাবনা কম। আর যদি তিনি বাস্তবে আর্থিকভাবে অসহায় প্রমাণিত হন, তাহলে সন্তানের ওপর ভরণপোষণের দায়িত্ব আরোপ করা হতে পারে। তাই উভয় পক্ষের উচিত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের অবস্থান ভালোভাবে যাচাই করা এবং সম্ভব হলে পারিবারিক সমাধানের পথ খোঁজা।
কারণ, আইন শেষ কথা নয়—পরিবারের বন্ধনই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন  সম্পদের কারণে  পরিবারের বিভেদ সৃষ্টি না করে,   পরিবার  সমাজের শান্তির জন্য সমঝোতা করে  ঐক্য বদ্ধ হয়ে চলি। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট