
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায়—তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের দৃশ্য। নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যখন বিপর্যস্ত, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষের ক্ষমতা কতটা সীমিত।
এক মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিল মানুষের বসতি, রাস্তা, সেতু কিংবা ব্যস্ত জনজীবন, পরের মুহূর্তেই সেখানে নেমে আসতে পারে পানির স্রোত ও পাহাড়ি ঢল। ভেসে যেতে পারে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এক এলাকার সঙ্গে আরেক এলাকার যোগাযোগ। আর এই ভয়াবহতা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—এগুলো কি পৃথিবী ধ্বংসের কোনো আলামত?
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিয়ামত ও পৃথিবীর শেষ পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে কিয়ামতের আলামত বলে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এসব দুর্যোগের প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিকভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া অনেক অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে এসব ঘটনা আমাদের জন্য অবশ্যই একটি বড় শিক্ষা।
আমরা যদি প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে থাকি, নদী-নালা দখল করি, পাহাড় কেটে ফেলি, নির্বিচারে গাছ কাটি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ করি—তাহলে একদিন প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমাদের জীবনকেই কঠিন করে তুলতে পারে।
আজ নেপাল, কাল হয়তো অন্য কোনো দেশ। আজ পাহাড়ি ঢল, কাল হতে পারে ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পৃথিবী আমাদের জন্য নিরাপদ রাখতে হলে এখনই সচেতন হতে হবে।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে কি না—এই প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা পৃথিবীকে কতটা বাসযোগ্য রেখে যাচ্ছি আগামী প্রজন্মের জন্য।
একটি ভয়াবহ দুর্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিতে পারে। কিন্তু দুর্যোগের অপেক্ষা করে সচেতন হওয়ার কোনো অর্থ নেই।
তাই আসুন, প্রকৃতিকে ভালোবাসি, পরিবেশ রক্ষা করি, নদী-পাহাড়-জলাশয় সংরক্ষণ করি এবং মানুষকে সচেতন করি।
কারণ প্রকৃতি আমাদের শত্রু নয়। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হলো বেঁচে থাকার সম্পর্ক।
আজকের এই ভয়াবহ দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দিক—মানুষ যতই শক্তিশালী হোক, প্রকৃতির কাছে সে এখনও অসহায়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দিন এবং পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখার দায়িত্বশীলতা দান করুন আমিন।