1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Бонусы для игроков интернет-казино Вавада! বিদ্যুৎ সংকট: সমাধান চাই পরিকল্পনায়, সাময়িক ব্যবস্থাপনায় নয়.- আল আমিন মিলু আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকবে তো?—টাকা না ক্ষমতা, কার কাছে জিম্মি আইন? টাকার ওপারে অন্ধকার নরসিংদীর শিবপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মনজুর এলাহী এমপি ফুলপুরে ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২,১০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, তাহলে জনগণ কি সুখ-শান্তি পাবে? সাঁথিয়ায় মব সৃষ্টি করে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সুখ কামনা- আল আমিন মিলু

বিদ্যুৎ সংকট: সমাধান চাই পরিকল্পনায়, সাময়িক ব্যবস্থাপনায় নয়.- আল আমিন মিলু

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিদ্যুৎ সংকট বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বাস্তবতা নয়। গরম বাড়লে চাহিদা বাড়ে, কোথাও উৎপাদন কমে, কোথাও জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, আবার কোথাও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় বিদ্যুৎ থাকলেও মানুষের ঘরে পৌঁছায় না। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন একটাই—বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যদি এত বেশি হয়, তাহলে সংকট কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা দেখলে চলবে না। দেখতে হবে—জ্বালানি আছে কি না, উৎপাদনক্ষম কেন্দ্রগুলো কতটা কার্যকর, সঞ্চালন লাইন কতটা সক্ষম এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কতটা দক্ষতা ও স্বচ্ছতা রয়েছে।

আমাদের বিদ্যুৎ সংকটের মূল সমস্যা অনেকাংশেই উৎপাদন ঘাটতি নয়; বরং জ্বালানি, সঞ্চালন, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতা।

শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়

বছরের পর বছর আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই যে প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে—এ ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

কেন্দ্র আছে, কিন্তু জ্বালানি নেই; জ্বালানি আছে, কিন্তু সঞ্চালন লাইন পর্যাপ্ত নয়; বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় কাঙ্ক্ষিত এলাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না—এ ধরনের সমস্যার সমন্বিত সমাধান জরুরি।

তাই এখন সময় এসেছে ‘আরও কেন্দ্র’ নয়, ‘আরও কার্যকর বিদ্যুৎব্যবস্থা’ গড়ে তোলার।

প্রথম কাজ—জ্বালানির নিশ্চয়তা

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

LNG আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।

কারণ জ্বালানি নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অনেকটা ইঞ্জিন কিনে রেখে তেল না রাখার মতো।

দ্বিতীয় কাজ—অচল কেন্দ্রের সংস্কার

নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।

যেসব কেন্দ্র মেরামত ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদনে ফিরতে পারে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে অদক্ষ ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল কেন্দ্রগুলোর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা দরকার।

জনগণের অর্থে পরিচালিত বিদ্যুৎ খাতে কোন কেন্দ্র কত দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে—এই হিসাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

তৃতীয় কাজ—ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ

বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় সমাধান।

সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, মার্কেট ও বড় বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে rooftop solar স্থাপনে সহজ ঋণ, কর সুবিধা ও নীতিগত প্রণোদনা দিতে হবে।

বিশেষ করে দিনের peak demand-এর সময় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পারে।

একটি জাতীয় ‘ছাদে সৌরবিদ্যুৎ’ কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।

চতুর্থ কাজ—সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে শক্তিশালী সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অনেক সময় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুর্বল গ্রিড বা স্থানীয় অবকাঠামোর কারণে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি গ্রিড, সাবস্টেশন, ট্রান্সমিশন লাইন ও বিতরণ নেটওয়ার্ককে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

পঞ্চম কাজ—বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ

বিদ্যুৎ সংকটের সময় শুধু সাধারণ মানুষকে ‘কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করুন’ বললে হবে না। রাষ্ট্রকেও নিজের অপচয় বন্ধ করতে হবে।

সরকারি অফিস, মার্কেট, শিল্পকারখানা ও বড় ভবনে energy-efficient যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

এসি, আলো, মোটর ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের দক্ষ ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে peak hour-এ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ tariff ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

কারণ—

যে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও সাশ্রয় করা যায়, সেটিই সবচেয়ে সস্তা বিদ্যুৎ।

ষষ্ঠ কাজ—স্মার্ট গ্রিড ও ব্যাটারি

ভবিষ্যতের বিদ্যুৎব্যবস্থা হবে স্মার্ট গ্রিডনির্ভর।

সৌরবিদ্যুৎ দিনের বেলায় বেশি উৎপাদিত হয়। সেই বিদ্যুৎ battery storage-এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করে সন্ধ্যার peak hour-এ ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ধীরে ধীরে smart meter, demand management এবং battery storage চালু করতে হবে।

সপ্তম কাজ—আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

জরুরি সময়ে বিদ্যুৎ আমদানি এবং সুযোগ অনুযায়ী আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য—দুই ব্যবস্থাই আমাদের বিদ্যুৎ নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে পারে।

চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি

বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

কোন কেন্দ্র কত টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলো, কোন কেন্দ্র কত দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছে, কোন কেন্দ্র কতদিন বন্ধ ছিল, জ্বালানি সংকটের কারণে কত উৎপাদন কমেছে—এসব তথ্য নিয়মিত জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।

বিদ্যুৎ খাতের বড় বড় চুক্তি ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

জনগণের টাকা জনগণের বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতেই ব্যয় হতে হবে।

আমাদের করণীয় কী?

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আমি মনে করি একটি সমন্বিত পাঁচ স্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি—

জ্বালানির নিশ্চয়তা
→ দক্ষ উৎপাদন
→ শক্তিশালী সঞ্চালন
→ নবায়নযোগ্য জ্বালানি
→ চাহিদা ও অপচয় ব্যবস্থাপনা।

এটি কোনো একদিনের সমাধান নয়। কিন্তু আজ পরিকল্পনা করলে আগামী কয়েক বছরেই একটি স্থিতিশীল ও টেকসই বিদ্যুৎব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

বিদ্যুৎ শুধু একটি পণ্য নয়। বিদ্যুৎ মানে কৃষকের সেচ, শ্রমিকের কারখানা, শিক্ষার্থীর পড়ার আলো, ব্যবসায়ীর কর্মঘণ্টা এবং সর্বোপরি দেশের অর্থনীতির গতি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট