1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Canlı yayın seçenekleriyle öne çıkan Mariobet giriş adresi çözümleri Canlı yayın seçenekleriyle öne çıkan Mariobet giriş adresi çözümleri Canlı yayın seçenekleriyle öne çıkan Mariobet giriş adresi çözümleri সরিষাবাড়ীতে পিংনা ইউনিয়ন এর ভিটেমাটিহীন পুস্মা ও মালার পাশে উপজেলা প্রশাসন জ্বালানি তেলের দাম: জনগণের পকেটই কি সব সংকটের শেষ ঠিকানা? – আল আমিন মিলু পোরশায় মাদক আসক্ত যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, উত্তাল রেলপথ স্টেশন ঘেরাও ও রেলপথ অবরোধে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক, ট্রেন চলাচল ব্যাহত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনমনে হতাশার ছাপ—প্রভাব পড়তে পারে সবকিছুর ওপর পোরশার নিতপুর সীমান্তে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই চোরাকারবারী আটক যুবদলের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বহিষ্কার

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম—শিক্ষার মান ধ্বংসের নেপথ্যে কারা?

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হলেন শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক। তাঁর নেতৃত্ব, দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠছে—কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অর্থের লেনদেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পরিচালনা কমিটির কোনো কোনো সদস্যের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে অনেক সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীদের। কারণ একজন অযোগ্য ব্যক্তি যখন বিদ্যালয়ের প্রধানের চেয়ারে বসেন, তখন তাঁর প্রভাব শুধু প্রশাসনিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর।
একজন প্রধান শিক্ষককে শুধু একটি পদে বসে দায়িত্ব পালন করলেই হয় না। তাঁকে হতে হয় দক্ষ প্রশাসক, ভালো শিক্ষক, ন্যায়পরায়ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়কারী। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু নিয়োগের সময় যদি যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থ বা প্রভাব প্রাধান্য পায়, তাহলে সেই পদে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হতে পারেন। আর অযোগ্য ব্যক্তি দায়িত্বে গেলে ধীরে ধীরে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির হাতে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত প্রভাব থাকে, তাহলে সেখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে কীভাবে? নিয়োগ বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা কী? একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সততা ও পেশাগত সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও সামনে আসছে।
অভিভাবকরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় হতে পারে না। এটি হতে হবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিটি সভাপতি বা সদস্যকে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলা যাবে না। অনেকেই নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু যেখানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
কারণ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ উঠলেও তা উপেক্ষা করাও সমাধান নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহিতা।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে এমন একটি ব্যবস্থা থাকা দরকার, যেখানে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, লিখিত বা কাঠামোবদ্ধ পরীক্ষা, যথাযথ সাক্ষাৎকার এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থের লেনদেন বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি পদ বিক্রি হয়ে গেলে শুধু একজন ব্যক্তি লাভবান হন না—এর মূল্য দিতে হয় একটি প্রজন্মকে।
আমরা চাই, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হোক জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার কেন্দ্র। সেখানে প্রধান শিক্ষক হবেন যোগ্যতা ও নেতৃত্বের প্রতীক, কোনো অনিয়মের সুবিধাভোগী নয়।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা একটাই—প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যেন কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি কিংবা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না থাকে। যোগ্য ব্যক্তি যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্বে আসবেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন।
কারণ একজন অযোগ্য প্রধান শিক্ষককে একটি চেয়ারে বসানো মানে শুধু একজন যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের আপস নয়—কারণ আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের বাংলাদেশএকজন ভালো শিক্ষকই পারে সুন্দর আগামীর উজ্জ্বল সম্ভবাবনা  তৈরি করতে। এটা সম্মিলিত উদ্যোগে তৈরি করা সম্ভব। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট