1. : lf_flvdbCnglkgU :
  2. live@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

সামাজিক অবক্ষয় মানুষকে অমানুষে পরিনত করেছে

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে
  1. নিজস্ব প্রতিবেদক 

সামাজিক অবক্ষয়, লোভ আর হিংসা—এই তিনটি শব্দ আজ আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রতিদিন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, কিভাবে মানুষের মানবিকতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, আর তার জায়গা দখল করছে স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা এবং অমানবিক আচরণ। একসময় যে মানুষ অন্যের কষ্টে কেঁদে উঠত, আজ সে মানুষই নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে কষ্ট দিতে দ্বিধা করে না। প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই মানুষ থাকছি, নাকি ধীরে ধীরে অমানুষে পরিণত হচ্ছি?

লোভ মানুষের অন্তরের এমন এক দুর্বলতা, যা তাকে অন্ধ করে দেয়। যখন একজন মানুষ সীমাহীন সম্পদের পেছনে ছুটতে থাকে, তখন সে ভুলে যায় তার নৈতিকতা, তার মূল্যবোধ, এমনকি তার সম্পর্কগুলোও। এই লোভই মানুষকে অন্যের অধিকার হরণ করতে প্ররোচিত করে। দুর্নীতি, প্রতারণা, চুরি—সবকিছুর মূলেই রয়েছে এই অন্ধ লোভ। মানুষ তখন আর ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না, শুধু নিজের লাভটাই তার কাছে বড় হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে হিংসা মানুষের মনকে বিষাক্ত করে তোলে। যখন আমরা অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে পারি না, বরং ভিতরে ভিতরে জ্বলে উঠি, তখনই হিংসার জন্ম হয়। এই হিংসা থেকেই সৃষ্টি হয় ঘৃণা, বিদ্বেষ, এমনকি সহিংসতাও। আমরা দেখছি, ছোট ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে কিভাবে বড় বড় সংঘাত তৈরি হচ্ছে। বন্ধুত্ব ভেঙে যাচ্ছে, পরিবারে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, সমাজে বাড়ছে বিভেদ। হিংসা মানুষকে এমন এক অন্ধকারে ঠেলে দেয়, যেখানে ভালোবাসা আর সহমর্মিতার কোনো স্থান থাকে না।

সামাজিক অবক্ষয় বলতে আমরা বুঝি—নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবনতি। আজকের সমাজে আমরা লক্ষ্য করছি, সততা, ন্যায়বিচার, সম্মান—এই গুণগুলো যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন দ্রুত সফল হতে চায়, কিন্তু সেই সাফল্যের পথে যদি অন্যায় বা অনৈতিক কিছু করতে হয়, তাতেও তারা পিছপা হচ্ছে না। এর ফলে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এর প্রভাব পড়ছে নতুন প্রজন্মের উপর। শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে শেখে। যদি তারা দেখে যে লোভ, হিংসা আর অনৈতিক কাজের মাধ্যমেই মানুষ সফল হচ্ছে, তাহলে তারাও সেই পথেই হাঁটতে চাইবে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বেশি বিপদের মুখে পড়বে।

তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো রয়েছে। পরিবর্তন শুরু হতে পারে আমাদের নিজেদের থেকেই। যদি আমরা নিজেদের ভেতরের লোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে শিখি, এবং নৈতিক মূল্যবোধকে জীবনের অংশ করে নিই, তাহলে ধীরে ধীরে সমাজও পরিবর্তিত হবে। আমাদের উচিত অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া, নিজের সীমার মধ্যে সন্তুষ্ট থাকা, এবং সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—এই তিনটি স্তম্ভ একসাথে কাজ করলে আমরা এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। পরিবারে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে, স্কুলে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, মানবিকতা শেখাতে হবে, আর সমাজে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষদের সম্মান দিতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর, সুস্থ এবং মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব।

সবশেষে বলতে চাই, মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমাদের মানবিকতা। যদি আমরা সেই মানবিকতাকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমাদের সব অর্জনই অর্থহীন হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা লোভ আর হিংসাকে পরিহার করে ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর ন্যায়বোধকে আঁকড়ে ধরি। তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে মানুষ হয়ে উঠতে পারব, অমানুষ নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট