তারাকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় আবারও সক্রিয় পুরোনো মাদক কারবারিরা! মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি সচেতন মহলের


নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও মাদক কারবারিদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর পুরোনো মাদক কারবারিদের কেউ কেউ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।
একসময় বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং সামাজিক প্রতিরোধের কারণে মাদক কারবারিদের প্রকাশ্য তৎপরতা কিছুটা কমে এসেছিল বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর কীভাবে পুরোনো মাদক কারবারিরা আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে তারাকান্দি ও এর আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর পুরোনো মাদক কারবারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন কেন?
তাদের তৎপরতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে কি না, থাকলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, আর যদি তথ্যের ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই ঘাটতি পূরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সচেতন মহল।
তবে মনে রাখতে হবে, কারও বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে একজন তরুণ তার শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে অশান্তি বাড়ে, আর্থিক সংকট তৈরি হয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।
এ কারণে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শুধু অভিযাননির্ভর রাখলে চলবে না। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের। পাশাপাশি মাদক কোথা থেকে আসছে, কীভাবে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং কারা এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে, সেসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কেবল ছোটখাটো বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সরবরাহকারী থেকে শুরু করে পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অভিভাবকদেরও সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও দৈনন্দিন আচরণের পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
এখন প্রশ্ন, তারাকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে কবে?
স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক পরিচয় যেন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার না করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা জরুরি।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, তারাকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় পুরোনো মাদক কারবারিদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত অভিযান, কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সামাজিক দায়িত্ব।
আসুন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করি। অভিযোগ নয়, চাই নিরপেক্ষ তদন্ত; আশ্বাস নয়, চাই কার্যকর পদক্ষেপ।
তারাকান্দিসহ আশপাশের এলাকাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এখনই প্রয়োজন দায়িত্বশীল উদ্যোগ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
মাদককে না বলুন, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসুন। মাদকের বিষয়ে সরিষাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হাসান এর সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।








