
কবিতা
বলবে কি, কোথায় গেলে
হওয়া যায় বুদ্ধিজীবী?
এর জন্য কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আছে,
নাকি আছে কোনো গোপন প্রশিক্ষণশিবির?
ভর্তি ফরম কোথায় পাবো বলো,
কত টাকা লাগে ফি?
কত নম্বরে পাস করলে তবে
মাথায় উঠবে ‘বুদ্ধিজীবী’?
দর্শন পড়বো, সমাজ পড়বো,
পড়বো ইতিহাসের ক্ষত,
মানুষ কেন কাঁদে—
কেন ক্ষমতা মানুষকে করে অন্ধ?
কোন বই পড়ে শিখবো বলো
সত্যের সঙ্গে থাকা?
কোন অধ্যায়ে লেখা আছে—
অন্যায়ের সামনে না-ঝুঁকা?
ডিগ্রি যদি বুদ্ধি হয়,
তবে সনদে ভরা দেশ;
তবু কেন এত অন্ধকার,
কেন এত প্রশ্নহীন বেশ?
বুদ্ধিজীবী হতে হলে
হয়তো আগে মানুষ হতে হয়—
নিজের সুবিধার বিপরীতে গিয়েও
সত্য কথাটি বলতে হয়।
জনতার কান্না শুনতে হয়,
নীরবতার ভাষা পড়তে হয়,
ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে
প্রশ্ন করার সাহস গড়তে হয়।
তাই আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়
খুঁজবো না আর বাইরে—
বই হবে আমার পাঠশালা,
জীবন হবে শিক্ষক আমার।
প্রতিদিন একটি প্রশ্ন করবো,
একটি সত্য খুঁজে নেবো,
একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে
একটি শব্দ লিখে যাবো।
হয়তো কোনোদিন কেউ বলবে—
‘লোকটা বেশ জ্ঞানী ছিল’;
আমি বলবো—
না, আমি শুধু
সত্যকে ভালোবেসেছিলাম।
বুদ্ধিজীবী হওয়ার জন্য
পদক চাই না, পরিচয়ও নয়—
যেদিন আমার চিন্তা
একজন মানুষের চোখ খুলে দেবে,
সেদিনই বুঝবো—
আমি বুদ্ধিজীবী হওয়ার পথে।
— লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর