জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দামোদরপুর ও পোগলদিঘা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি উঠেছে। আটক মাদক কারবারির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান চলবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। মাদক নির্মূলে এবার কি আইনের আওতায় আসবে নেপথ্যের কারবারিরা? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।মাদক শুধু একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের ভয়াবহ ছোবলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দামোদরপুর ও পোগলদিঘা এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আটক মাদক কারবারির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে এই ব্যবসার নেপথ্যে কারা রয়েছে, কারা মাদক সরবরাহ করে এবং কারা বিভিন্নভাবে মাদক কারবারিদের সহযোগিতা করে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে মনে রাখতে হবে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই প্রশাসনের দায়িত্ব।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে মাদক বিক্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থেকে যারা এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে, তাদের সম্পর্কেও প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পরও যদি একই এলাকায় বারবার মাদকের বিস্তার ঘটে, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান কোথায়?
শুধু মাদকসহ কয়েকজনকে আটক করলেই কি মাদকের বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব? নাকি মাদক সরবরাহের উৎস, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে?
বিশ্লেষকদের মতে, মাদক নির্মূলে বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ধারাবাহিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।
কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে সেটিকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
দামোদরপুর ও পোগলদিঘা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া।
এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকায় মাদক বিক্রি বা সরবরাহের নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কাউকে মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা যাচাই না করা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
মনে রাখতে হবে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া কঠিন।
এখন দেখার বিষয়, আটক মাদক কারবারির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে দামোদরপুর ও পোগলদিঘা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান কতটা কার্যকর হয় এবং তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকেন, আবার নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন—নিশ্চিত করতে হবে দুটোই।এব বিষয়ে সরিষাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হাসান এর সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। আসুন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করি, পরিবারকে নিরাপদ রাখি এবং একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি।
মাদককে না বলুন, অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন হোন।