রাকিবুল ইসলাম লিংকন
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং সরকারি-বেসরকারি নানা পুনর্বাসন কর্মসূচির ফলে জামালপুর জেলা শহরের পুরনো যৌনপল্লীটি এখন প্রায় পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে। একসময়ের সশব্দ এই এলাকার বাসিন্দা সংখ্যা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, যার বড় অংশই ফিরে গেছেন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।
স্থানীয় সূত্র মতে, শহরের কেন্দ্রস্থলে গড়ে ওঠা এই পল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য পরিবার বসবাস করে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় সুশীল সমাজ, সচেতন তরুণ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এখানকার বাসিন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, কেবল স্থানটি খালি করাই মূল লক্ষ্য ছিল না; বরং নারীদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সেলাই কাজ, কুটির শিল্প, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করায় অনেক নারীই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের এই যৌনপল্লীকে কেন্দ্র করে অতীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হতো। তবে ধারাবাহিক তদারকি ও পুনর্বাসনের ফলে বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিবেশ অনেকটাই শান্ত ও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে যে অল্প কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছেন, তারাও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সঠিক সামাজিক উদ্যোগ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, জামালপুরের এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।