কবিতা
হঠাৎ যদি শোনো— আমি ভালো আছি, আমার বুকের ভাঙা উঠোনে সুখ পাখিটা ফিরেছে, আমার শূন্য খাঁচায় আবার বসন্ত নেমেছে—
তবে কি কষ্ট পাবে তুমি?
যদি পাও, তবে সেই সুখও তোমায় দেবো। আমার ঠোঁটে ফোটা হাসিটুকু, আমার চোখে জ্বলা স্বপ্নটুকু, আমার বেঁচে থাকার সাধটুকু— সবটুকু নিয়ে যেয়ো।
আমি আবারও দুঃখের চাদর গায়ে রাতের কাছে আশ্রয় নেব।
কারণ, তোমাকে কাঁদিয়ে আমার সুখী হওয়ার সাধ্য নেই। তোমার চোখে জল রেখে আমার বসন্ত সাজে না।
জানো, তোমাকে হারিয়ে আমি শুধু মানুষ হারাইনি, হারিয়েছি নিজের ভেতরকার আমিটাকেও। যে হৃদয়ে একদিন তোমার নামে ফুল ফুটত, সেখানে আজ কেবল বিরহের শ্মশান, আর একমুঠো পোড়া স্মৃতি।
তবু যদি কোনোদিন আমার দুয়ারে সুখ এসে দাঁড়ায়, আমি তাকে বলব— ফিরে যা, আমার সুখের ঠিকানা আমি নই, আমার সুখ তো সেই মানুষটা, যে কোনোদিন আমার ছিল না, অথচ যাকে হারানোর ভয়ে আমি প্রতিদিন নিজেকেই হারিয়েছি।
নেবে কি সুখ?
নাও, আমার সমস্ত সুখ নিয়ে যাও। বিনিময়ে শুধু একটুখানি অভিমান রেখে যেয়ো, যেন রাতের গভীরে নিজেকে বোঝাতে পারি— তুমি একেবারেই নিষ্ঠুর ছিলে না, আমিই তোমাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলাম।
আর যদি কখনো আমার কথা মনে পড়ে, ভেবো না আমি কাঁদছি।
আমি হয়তো হাসছি, হয়তো আকাশ দেখছি, হয়তো বুকের ভেতর একটা মৃত পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনছি।
তুমি সুখে থেকো— আমার না-পাওয়া ভালোবাসার এটাই শেষ প্রার্থনা।
শুধু কোনোদিন তোমার সুখের ভিড়ে যদি একাকিত্ব এসে বসে, যদি বুকের ভেতর কেউ একজনের শূন্যতা কাঁদে—
তবে মনে কোরো, একটা মানুষ ছিল, যে তোমার কাছে সুখ চায়নি, তোমার সুখের জন্য নিজের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়েছিল।
লেখক, কলামিস্ট, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক সরিষাবাড়ী, জামালপুর।