কবিতা
বাঁশ এখন আর বাঁশ নয় ভাই,
সভ্যতার উপহার,
মুখে মধু, বুকে ছুরি—
এ কেমন ব্যবহার!
সামনে এসে বুকে টানে,
পেছন দিকে বাঁশ ঠাসে,
আপন সেজে সর্বনাশে
মিটমিটিয়ে হাসে!
বাঁশের আবার জাত-বিচার নেই,
নেই তো ধর্ম-বর্ণ,
যার যেখানে স্বার্থ জাগে,
সেখানেই বাঁশের পর্ব!
বন্ধু দেয় বিশ্বাস ভেঙে,
আত্মীয় দেয় ফাঁকি,
নেতা যায় আশ্বাস দিয়ে,
জনতা খায় বাকি!
ভোটের আগে হাতটি ধরে,
বলে, ‘তুমিই প্রাণ’,
ভোট ফুরালে চিনবে না আর—
বদলে যাবে ঘ্রাণ!
অফিসজুড়ে বাঁশের বাগান,
ফাইলে ফাইলে জঙ্গল,
ন্যায়ের কথা বলতে গেলেই
ষড়যন্ত্রের মঙ্গল!
সত্য কথা বললে নাকি
বেয়াদবি হয় ভারী,
মিথ্যে যারা ফেরি করে,
তারাই দরবারি!
বাঁশের ভয়ে পাছা লুকিয়ে
চলবে আর কত কাল?
মেরুদণ্ড সোজা রাখলে বাঁশের আসবেই চাল!
বাঁশ যদি দাও, দাও না ভাই,
লুকিয়ে কেন দাও?
সামনে এসে সত্য কথাটি
বুক ফুলিয়ে কও!
বাঁশের ভয়ে সত্যের মুখে
যদি রাখো তালা,
বাঁশবাগানে জন্ম নেবে
মিথ্যের নতুন ডালা!
বাঁশ ফেলো না, জমাও ভাই,
দিন বদলাবে শেষে,
ঝুড়ি বানিয়ে বিক্রি করো
হাটে-বাজারে হেসে!
তবু বলি, বাঁশের দেশে বাঁশই যদি সার, মানুষ হয়ে বাঁচার স্বপ্ন থাকবে কত আর?
বাঁশের যুগে বাঁশের ভয়েই মাথা নোয়াইও না—
বাঁশ যারা দেয়, মনে রেখো,
তারাই বাঁশের মালিক না!
— লেখক কলামিস্ট মানবাধিকার কর্মী রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ী জামালপুর।