কবিতা
তোমার তো বাজার আসে
চামচাদেরই হাত ধরে,
চাল-ডাল, ডিম, পেঁয়াজ-আলু
আসে কত উপহার ভরে।
কাঁচা মরিচ দামে চড়ে,
পেঁয়াজ ছুলে হাজার টাকা,
তোমার ঘরে কীসের চিন্তা—
তোমার তো সব ভরা-ভাঁকা!
দামী ঘড়ি, দামী পোশাক,
দামী সুগন্ধি মেখে,
সুবিধাভোগীর আশীর্বাদে
দিন কাটে যে সুখে।
কী করে বুঝবে ঘামের গন্ধ,
কী করে বুঝবে ক্ষুধার জ্বালা?
কী করে বুঝবে শ্রমিকের ঘাম,
কী করে বুঝবে খালি থালা?
কোটি টাকা বৈধ-অবৈধ,
হিসাব থাকে কতখানি?
টাকার কাছে মুছে যায় যে
ঘামের দাগ আর চোখের পানি।
আমারও তো বাজার আসে,
তোমারও তো বাজার আসে,
শুধু তোমার বাজারজুড়ে
সুবিধারই সুবাস ভাসে।
আমার শিশুর স্কুলটা সাদামাটা,
তোমার শিশুর স্কুলটা দামী,
আমার ঘরে লোডশেডিং,
তোমার ঘরে আলো থামে না
কি কারণ জানি।
আমার পথে খানাখন্দ,
তোমার পথে গাড়ি ছুটে,
আমার জীবন ঋণের বোঝা,
তোমার জীবন সুখে ফোটে।
আমার কাছে পেঁয়াজ-আলু
সংসারেরই হিসাব কষা,
তোমার কাছে দাম বাড়াটা
খবর মাত্র—একটি পাতা।
তবু বলো—দেশটা সবার,
সবার নাকি সমান ভাগ!
কেন তবে কারও ঘরে উৎসব,
কারও ঘরে ক্ষুধার দাগ?
মনে রেখো, ক্ষমতারও
একদিন আসে শেষ প্রহর,
নীরব মানুষ জেগে উঠলে
কাঁপবে তখন মসনদ-শহর।
সেদিন আবার বাজার বসবে,
বসবে সবার একই হাট,
সেদিন কিন্তু হিসাব হবে—
কার ঘামে কার প্রাসাদ-ঘাট!
তোমারও তো বাজার আসে,
আমারও তো বাজার আসে—
তফাত শুধু, তোমার বাজার
আশীর্বাদে হাসে,
আমার বাজার ঘামের গন্ধে ফাসে।
লেখক কলামিস্ট মানবাধিকার কর্মী রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ী জামালপুর।